বসন্তের ক্যানভাসে পলাশ ফুলের আল্পনা

বৈরী পরিবেশ আর মানুষের সচেতনতার অভাবে পলাশ গাছ আগের তুলনায় অনেক কমে যাচ্ছে। বৈশ্বিক দূষণ ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের ফলে ধীরে ধীরে প্রতিটি ঋতুই হারাচ্ছে তার নিজস্ব বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য। প্রকৃতির স্বরূপ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন ব্যাপক বৃক্ষরোপণ

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

Location :

Tangail
পলাশ ফুল
পলাশ ফুল |নয়া দিগন্ত

মহান রবের চিরায়ত নিয়মে প্রকৃতিতে চলছে ঋতুরাজ বসন্তের রঙিন হাওয়া। বসন্ত মানেই কোকিলের ডাক, পলাশ আর শিমুল ফুলের আগুন ঝরানো সমারোহ। ফুলের সৌরভে মেতে উঠেছে চারপাশ- প্রেমহীন হৃদয় জেগেছে প্রাণের ব্যাকুলতায়। ফাল্গুনের উদাস হাওয়া, পলাশ, শিমুলসহ রঙিন ফুল আর গাছে গাছে বাসন্তী রঙের কঁচিপাতার শোভায় অন্য রকম আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। এর সাথে যোগ দেয় কোকিলের মন পাগল করা কুহুতান। সব মিলিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের খেতাবটি যেন প্রকৃতির রঙ-রূপে ভরপুর।

পলাশ ফুলে মুগ্ধ হয়ে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন,
‘কুঞ্জবনের অঞ্জলি যে ছড়িয়ে পড়ে,
পলাশ কানন ধৈর্য হারায় রঙের ঝড়ে,
বেণুর শাখা তালে মাতাল পাতার নাচে।’

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে রাস্তার পাশ, ক্ষেতের আইল বা ঝোপঝাড়ে সহসাই চোখে পড়ে পলাশ ফুলের দৃশ্য। এমন দৃশ্য স্থানীয়দের মনে নতুন করে আবহমান বাংলার স্মৃতির সাগরে ভাসায়। জীর্ণশীর্ণ প্রকৃতির বুক চিরে রঙিন পলাশ ফুল দেখে ভালো লাগে না এমন মানুষ খোঁজে পাওয়া কঠিন।

৩রা ফাল্গুন সোমবার বিকালে উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের হাতিমারা গ্রামের মহিলা মাদরাসার সামনে চোখে পরে একটি পলাশ গাছের। গাছে পাতা নেই তবে রক্তিম ফুলে একাকার। চোখ জুড়ানো দৃশ্য। দূর থেকে মনে হয় গাছজুড়ে জ্বলছে অগ্নিশিখা। আর কাছে গেলে দেখা যায় কোমল পাঁপড়ির ভাঁজে লুকিয়ে আছে মৃদু সৌরভ ও অদ্ভুত এক উষ্ণতা। নীল আকাশ, ধুলোমাখা পথ আর সবুজের ফাঁকে পলাশের এই দীপ্ত রং বসন্তকে করে তোলে আরও উচ্ছল, আরো জীবন্ত। তাই পলাশ শুধু একটি ফুল নয়—এ যেন ঋতুর আনন্দ, প্রেম আর নতুন আশার রক্তিম প্রতীক।

পলাশের আরেক নাম কিংশুক, ইংরেজি নাম ফ্লেম অব দ্য ফরেস্ট, বৈজ্ঞানিক নাম বুটিয়া মনোস্পার্মা। চমৎকার এই ফুলটি সম্পর্কে উদ্ভিদবিদ দ্বিজেন শর্মা ‘ফুলগুলি যেন কথা’ বইতে লিখেছেন মাঝারি আকারের পত্রমোচি দেশী গাছ। তিনটি পত্রিকা নিয়ে যৌগিকপত্র। ফুল ফুটে বসন্তের ৭.৫-১০ সেমি. শিম ফুলের মতো, গাঢ় কমলা, লম্বা মুঞ্জুরিতে ঘনবদ্ধ থাকে। সারা গাছ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। বীজ থেকে সহজেই চারা জন্মায়, বাড়েও দ্রুত।

গণমাধ্যমকর্মী ও সৌখিন ফটোগ্রাফার মো: কামাল হোসেন বলেন, ‘বৈরী পরিবেশ আর মানুষের সচেতনতার অভাবে পলাশ গাছ আগের তুলনায় অনেক কমে যাচ্ছে। বৈশ্বিক দূষণ ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের ফলে ধীরে ধীরে প্রতিটি ঋতুই হারাচ্ছে তার নিজস্ব বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য। প্রকৃতির স্বরূপ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন ব্যাপক বৃক্ষরোপণ।’