কুড়িগ্রামে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল আটক

আটককৃত চালগুলো সরকারি দফতরের। কয়েকটি গুদামে আনুমানিক ৭০০-৮০০ বস্তা চাল অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই গুদাম মালিকরা পালিয়ে যায়।

রেজাউল করিম রেজা, কুড়িগ্রাম

Location :

Kurigram
আটককৃত চাল
আটককৃত চাল |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ চালগুলো জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মধ্যরাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কাশিম বাজার এলাকায় স্থানীয় তিন ব্যবসায়ী ছমের আলী, রবিউল ইসলাম ও সোনাউল্ল্যা মিয়ার গুদামঘর থেকে এসব চাল আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য অধিদফতরের সিলমোহরযুক্ত ৩০ কেজির বস্তাসহ কিছু স্থানীয় বস্তায় বিপুল পরিমাণ চাল অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৭০০-৮০০ বস্তায় অন্তত ২০ মেট্রিক টন চাল গুদামগুলোতে মজুদ ছিল। তবে অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আটককৃত এসব চাল ভিজিএফ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত। তাদের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের কিছু জনপ্রতিনিধি এসব চাল গোপনে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে সেই চাল জনসম্মুখেই পরিষদের গুদাম থেকে সরিয়ে ব্যবসায়ীদের গুদামে রাখা হয়।

এ বিষয়ে বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নে ৬৪ টন ৫৩০ কেজি ভিজিএফ চাল শতভাগ বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। উদ্ধারকৃত চাল কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন জানান, আটককৃত চালগুলো সরকারি দফতরের। কয়েকটি গুদামে আনুমানিক ৭০০-৮০০ বস্তা চাল অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই গুদাম মালিকরা পালিয়ে যায়। বর্তমানে চালগুলো পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।