মেহেরপুরে নিখোঁজের ৭ দিন পর গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ক্যাশবপাড়ার একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। লাশটির মাথার দিকের অংশ একটি বস্তায় মোড়ানো ছিল।

ওয়াজেদুল হক, মেহেরপুর

Location :

Meherpur
প্রতীকী ছবি

মেহেরপুরে নিখোঁজের সাত দিন পর সুরাইয়া নাসরিন টগর (৩৪) নামের এক গৃহবধূর লাশ শহরের ক্যাশবপাড়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ক্যাশবপাড়ার একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। লাশটির মাথার দিকের অংশ একটি বস্তায় মোড়ানো ছিল।

সুরাইয়া সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের শফিউজ্জামান সেন্টুর স্ত্রী। তার দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তারা মেহেরপুর শহরের ক্যাশবপাড়ায় বসবাস করতেন।

স্থানীয়রা জানান, নোমান গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী নোমানের ক্যাশবপাড়ার পরিত্যক্ত জমিতে এক নারীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে। পরে নিহতের স্বামী সেন্টু মিয়া ঘটনাস্থলে এসে লাশটি তার স্ত্রীর বলে শনাক্ত করেন।

নিহতের স্বামী শফিউজ্জামান সেন্টু জানান, তিনি জেলার গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামে আশা এনজিওতে চাকরি করেন। ৩০ ডিসেম্বর তার সন্তানেরা জানান, মা কিছু স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পুলিশে খবর দেন তিনি। পরদিন রাত পর্যন্ত সুরাইয়া বাড়ি না ফেরায় সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। কিন্তু গত সাত দিনের মধ্যে পুলিশ তার কোনো সন্ধান মেলাতে পারেনি।

এদিকে, নিহতের ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম টুটুল অভিযোগ করে বলেন, সন্দেহভাজন তিনজনের নাম পুলিশকে দেয়া হয়েছে। তাদের কথোপোকথনের কিছু গোপন চ্যাট লিস্টও সরবরাহ করেছেন তিনি। তারপরও পুলিশ অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখেননি।

তিনি আরো বলেন, তার খালু সেন্টু তিন বছর আগে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামে আশা এনজিওতে চাকরি করতেন। এ সময় এক ইউপি সদস্যের সাথে সুরাইয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এছাড়াও শহরের আরো দু’জনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলতো তার খালা। বাড়ি থেকে বের হবার আগেও ওই তিনজনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা বলেছেন। তারপরও পুলিশ তাদের সন্দেহের তালিকায় রাখেননি।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর জানান, সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেছে পুলিশ। এমনকি তার কললিস্টসহ বেশ কয়েকটি সূত্র ধরে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। দ্রুত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।