সাভারের জুলাই হত্যা মামলার আসামি বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে সোমবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

আমান উল্লাহ পাটওয়ারী, সাভার (ঢাকা)

Location :

Savar
মোহাম্মদ পাভেল ওরফে তোতলা পাভেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
মোহাম্মদ পাভেল ওরফে তোতলা পাভেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ |নয়া দিগন্ত

সাভারে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি ও হামলা করে ছাত্র হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি মোহাম্মদ পাভেল ওরফে তোতলা পাভেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে সোমবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, চীনের বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাভেল বাংলাদেশে ফিরছে- ইন্টারপোলের কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়ে ঢাকা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় সাভার মডেল থানা পুলিশ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। চীন থেকে ঢাকায় পৌঁছার পর বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাভেলের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার পুকুরপাড় গ্রামের হেফজু মিয়ার ছেলে ও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাভার পৌর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় সাভারে আন্দোলনকারীদের উপর প্রকাশ্যে হামলা ও গুলিবর্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে পাভেল আত্মগোপনে ছিলেন। পাসপোর্টে নাম পরিবর্তন করে তিনি ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া ভ্রমণ শেষে সর্বশেষ চীনে অবস্থান করছিলেন। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল, চীনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় পাভেলকে গ্রেফতার করা হয়। সম্প্রতি পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে করে জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে পাভেল চীন থেকে বাংলাদেশে এসে পরে ভারত ও পর্তুগাল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তার বড় ভাইয়ের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

তার বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের সময় সাভার বাসস্ট্যান্ডের জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা মার্কেটে দোকান দখল, চাঁদা আদায় ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ওপর হামলার ঘটনায়, সাভার পৌরসভার আনন্দপুর সিটিলেন এলাকার ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী চুন্নুর প্রতিষ্ঠানে গুলি করে আতঙ্ক ছড়িয়ে ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা, ইন্টারনেট ব্যবসায়ী রকিকে অপহরণ করে চার লাখ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ও সাভারের এক গণমাধ্যমকর্মীকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় বিভিন্ন সময় পুলিশের হাতে চারবার আটক হন। তবে তৎকালীন সরকারি দলের প্রভাবে প্রতিবারই তিনি ছাড়া পেয়ে যান।

এছাড়াও, পাভেল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীবের সব অপকর্মে সক্রিয় অংশ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো: হেলাল উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, সাভার থানায় গ্রেফতার পাভেলের বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যার ৬-৭টি মামলা রয়েছে। বুধবার দুপুরে তাকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।