তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প নিয়ে বিরোধের জের ধরে বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ছোট ভাই পরিকল্পিতভাবে বড় ভাইকে হত্যা করে ঘটনা ধামাচাপা দিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর নাটক সাজানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে।
জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে রইচ উদ্দিন ও মজনু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে মাছ চাষ ও ফসলি জমিতে সেচ পাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছে। এরই জের ধরে গত ১১ মার্চ রইচ উদ্দিনের পুকুরে মাছ জোরপূর্বক ধরে নেন তার সহদোর ভাই আব্দুল লতিফ, মজনু ও মোতালেব। মাছ ধরায় বাধা দিলে তারা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে রইচ উদ্দিনকে বেধরক মারধর করেন। পরে তাড়াশ থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।
এ নিয়ে রইচ উদ্দিন সেদিন বাদী হয়ে তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযোগ করলে ছোট ভাই মজনু ৭ দিনের মধ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তার তিনদিন পরই গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) রইচ উদ্দিনকে তার সেচ পাম্পের ঘরে মৃত্যু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকজন। যা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন রইচ উদ্দিনের ছেলে-স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজন।
রইচ উদ্দিনের ছেলে সিয়াম হোসেন দাবি করেন, আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারণ আমার বাবা ১৫ বছর ধরে সেচ পাম্পের মাধ্যমে প্রায় ১২০-১৩০ বিঘা ফসলি জমিতে পানি দেন। মজনু মিয়ার কাছ থেকে লোকজন পানি নেন না। এ নিয়ে মাঝে মধ্যেই বাবার সাথে মজনু কাকার তর্ক ও বাকবিতণ্ডা হয়েছে। আবার তাদের পুকুরে মাছ ধরায় বাধা দেয়ায় আমার বাবাকে প্রচুর মেরেছিলেন। যা নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন বাবা। তারপর থেকে তিনি বাবাকে ৭ দিনের মধ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেন। আর গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) বাবাকে সেচ পাম্পের ঘরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। এটা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
এদিকে অভিযুক্ত মজনু মিয়া জানান, রইচ আমার নিজের ভাই। ভাই হয়ে কি নিজের ভাইকে মারতে পারে। এখন মানুষ নানা কথা বলছে। আমরা এখন কিছুই বলতে পারছি না। কি আর কমু। ভাই মরে গেছে আমাদের দেহ ফেটে যাচ্ছে।
তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরে সে আইনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।



