যশোরের ৬ আসনে ১৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এম আইউব, যশোর অফিস

Location :

Jashore
ছবি : নয়া দিগন্ত

যশোরের ছয়টি আসনে ১৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে শনিবার বিকেলে রিটার্নিং অফিসার আশেক হাসান এ ঘোষণা দেন।

এদিন যশোর-৫ ও ৬ আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর-৫ আসনে (মণিরামপুর) আটজন প্রার্থীর মধ্যে বাতিল হয়েছে চারজনের মনোনয়নপত্র। বাতিল হওয়ার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: কামরুজ্জামান রয়েছেন। তার মনোনয়নপত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের ত্রুটি ছিল।

এছাড়া বাতিল হয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমএ হালিমের। তার মনোনয়নপত্র পূরণ অসম্পূর্ণ ছিল এবং সাক্ষীর স্বাক্ষর ছিল না।

অন্যদিকে, এক শতাংশ ভোটারের ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবিএম গোলাম মোস্তফা ও নজরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয়।

যশোর-৫ আসনে এখন বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন রশীদ আহমাদ (বিএনপি), জয়নাল আবেদীন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), গাজী এনামুল হক (জামায়াতে ইসলামী) ও শহীদ মো: ইকবাল হোসেন (স্বতন্ত্র)।

যশোর-৬ আসন থেকে পাঁচজন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরমধ্যে পূরণে অসম্পূর্ণ থাকা এবং সাক্ষীর স্বাক্ষর না থাকায় জিএম হাসান (জাতীয় পার্টি) এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ঋণ খেলাপির দায়ে শহিদুল ইসলামের (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

এ আসনে বর্তমানে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন মোক্তার আলী (জামায়াতে ইসলামী), মাহবুব হাসান (এবি পার্টি), আবুল হোসেন আজাদ (বিএনপি)।

এর আগে বৃহস্পিতবার যাচাই-বাছাইয়ে যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাতজনের মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তারা হলেন, বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেয়া মফিকুল হাসান তৃপ্তি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান আলী গোলদার।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তাদের মধ্যে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতায় জামায়াতের ডা: মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় এদিন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে ত্রুটি থাকায় তা বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার।

শুক্রবার যশোর-৩ আসনে (সদরে) ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে বাতিল হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের মনোনয়নপত্র। তিনি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ঋণ খেলাপি রয়েছেন। বর্তমানে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল কাদের, বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় পার্টির খবির গাজী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাশেদ খান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নিজাম উদ্দিন অমিত।

যশোর-৪ আসনে (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) মনোনয়নপত্র জমা দেন ১০ জন। এর মধ্যে বিএনপির টিএস আইয়ূব, অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী টিএস আইয়ূব ঢাকা ব্যাংকে ঋণ খেলাপি থাকায় তার প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দেয় ব্যাংকটির ধানমন্ডি মডেল ব্র্যাঞ্চ। তার ছেলে ফারহান সাজিদও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের নামও জমা দিয়েছিলেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী।

আরেক প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী না হলেও মনোনয়নপত্রে দেখিয়েছেন তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। তবে, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়ন ফরম অসম্পূর্ণ থাকায় তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।