আকাশে মেঘ দেখলেই দুশ্চিন্তা বাড়ে দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলার প্রায় প্রতিটি সরকারি আবাসনের বাসিন্দাদের মনে। দীর্ঘ দুই যুগেও সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ ঘরগুলোতে বৃষ্টির পানি পড়ে নষ্ট হয় কষ্টার্জিত আসবাবপত্রগুলো। নির্ঘুম কাটাতে হয় সারারাত। জরাজীর্ণ ঘরের এ চিত্র উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে নির্মিত সরকারি আবাসনের (গুচ্ছগ্রাম)। দুর্ভোগের শেষ নেই এখানে বসবাসরত বাস্তুহারা হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলোর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ আবাসন, উত্তর লর্ডহার্ডিঞ্জ নজির মিয়া বাড়ি সংলগ্ন আবাসন, উত্তর প্যায়ারীমোহন (বটতলা সংলগ্ন) সোনালী আবাসন, ধলীগৌরনগরের চতলা বাজার সংলগ্ন আবাসন, উত্তর চতলা মহাজন আবাসনসহ রমাগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ রায়চাঁদে নির্মিত দু’টি আবাসন। এখানে বসবাসরত পরিবারগুলো দিনযাপন করছেন এ জরাজীর্ণ ঘরেই।
কেউ কেউ ঘরের ওপর পলিথিন দিয়ে ইটচাপা দিয়েছেন। তবে আকাশে মেঘ দেখলেই সারারাত জেগে থাকেন তারা। যদি বৃষ্টির সাথে বাতাস হয় তবে ওই পলিথিনও উড়ে গিয়ে পানি পড়ে ঘরে। এতে ভিজে নষ্ট হবে কষ্টার্জিত আসবাবপত্র।
এছাড়াও এখানে বসবাসরতদের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। কারণ আবাসনবাসীর জন্য নেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। ফলে এ সময়ে পানিবাহিত রোগ ও বিভিন্ন মহামারীর আশঙ্কাও করছেন অসহায় পরিবারগুলো। তাই এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে পরিবারগুলো।
আবাসনের বাসিন্দা আবুল কালাম, আরিফ, হোসনেয়ারা, লাইজু, ইউসুফ ও জামাল জানান, অত্যন্ত কষ্ট করে আবাসনে থাকতে হয় তাদের। আকাশে মেঘ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে যান তারা। নিজেরা ধার-দেনা করে মোটামুটি মেরামত করে পরিবার নিয়ে থাকেন।
জামাল হোসেন নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘কয়েকবার উপজেলা থেকে স্যারেরা এসে ঘরের ছবি তুলে নিয়েছে। কেন নিয়েছে তা জানি না, তবে আমাদের কোনো উপকার হয়নি।’
জানা গেছে, ২০০৪ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এসব আবাসনগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় জরাজীর্ণ ঘরগুলো মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কিছু কিছু মেরামত করা হলেও তা শুধু কাগজেকলমে, বাস্তবে নেই।
রমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো: দিদারুল ইসলাম জানান, আবাসনের ঘরগুলো দ্রুত মেরামত করা না হলে এ বর্ষায় তাদের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। দ্রুত মেরামত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
রমাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা মিয়া বলেন, ‘আবাসনের ঘরগুলো কোনো মেরামত হয়নি। বসবাসরত বাসিন্দাদের সমস্যার বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
তবে আবাসনে বসবাসরতরা জানান, তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। তারা ভূমিহীন হতদরিদ্র। কোনোরকমে সংসার চালান তারা। তাই ঘর মেরামত করতে পারছেন না। সরকারিভাবে ঘরগুলো মেরামতের দাবি তাদের।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমাদ্দার বলেন, ‘জরাজীর্ণ ঘরগুলো মেরামতের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই।’
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সিফাত বিন সাদেক নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ওই সকল আবাসনের মেরামতের কোনো বরাদ্দ আসেনি। আমরা সরেজমিনে গিয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করব।’



