রাজবাড়ীর প্রধান ডাকঘরে গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনায় পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি রাজবাড়ীর প্রধান ডাকঘরে অতিরিক্ত দায়িত্বে পোস্টমাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়ার প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও অভিযুক্ত আরো ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
রোরবার (১৬ আগস্ট) কুষ্টিয়ার প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আবুল কালাম আছাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত ৪ আগস্ট দক্ষিণাঞ্চল খুলনার পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিকাশ চন্দ্রকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে ও সরকারি কাজের স্বার্থে বিকাশ চন্দ্রকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের দায়ে একই বিধিমালার ১২ ধারা মোতাবেক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আদেশে আরো বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে বিকাশ চন্দ্রকে নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে হবে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া তিনি সদর দফতর ত্যাগ করতে পারবেন না। এ সময় তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।
অফিস আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসাথে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে চার্জ রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আবুল কালাম আছাদ বলেন, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সেখানকার তৎকালীন পোস্টমাস্টার ও কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরে কর্মরত সহকারী পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা রাজবাড়ীর প্রধান ডাকঘরে কর্মরত পোস্টাল অপারেটর, ট্রেজারার ও এমএলএসএসসহ আরো ছয়জন কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। গত ৯ আগস্ট কুষ্টিয়ার ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয় থেকে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রাজবাড়ীর প্রধান ডাকঘরে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা নির্ধারিত কর্মকর্তা ও ফরম এড়িয়ে জমা স্লিপের মাধ্যমে ৭৪ জন গ্রাহকের কাছ থেকে এক কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করে ডাকঘরের ট্রেজারিতে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরে ১৩ জনকে ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফেরত দিলেও ৬১ জনের ৯১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। ঘটনার পর থেকে শিহাব আত্মগোপনে রয়েছেন।
বিভাগীয় তদন্তে ঘটনায় শিহাব মৃধাসহ তৎকালীন পোস্টমাস্টার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস, মাহবুব হাসান মৃধা, রেজাউল আলম, নাজমুল হাসান, গোলাম মোস্তফা বাচ্চু ও প্রণব কুমার সরকারের সম্পৃক্ততার কথা উঠে আসে। পরে গত ২ আগস্ট ডাকঘরের পক্ষ থেকে সাতজনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে মামলা করা হয়। এছাড়াও গ্রাহকদের পক্ষ থেকেও প্রতারণার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।



