গাজীপুরে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির ২ গ্রুপের সংঘর্ষ

মহানগরের বাসন থানার বিটিপাড়া এলাকায় অবস্থিত ম্যানেল ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার ঝুট ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কিছু নেতাকর্মীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Gazipur
দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া |নয়া দিগন্ত

গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন বিটিপাড়া এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং ঝুটবোঝাই ট্রাক ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিটিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহানগরের বাসন থানার বিটিপাড়া এলাকায় অবস্থিত ম্যানেল ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার ঝুট ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কিছু নেতাকর্মীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এ ব্যবসা থেকে পাওয়া লাভের একটি অংশ এলাকার প্রায় ৮০ জন নেতাকর্মীর মধ্যে ভাগ করে দেয়া হত। শনিবার সকালে খান ট্রেডিংয়ের প্রোপ্রাইটর কৌশিক খানের সাথে কারখানার ঝুট ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি অনুযায়ী ঝুট নিতে গেলে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় চৌরাস্তা এলাকার মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শরীফ আজাদ, বাসন থানা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নুর ইসলাম দিপু ও মান্নানের নেতৃত্বে একটি পক্ষ কারখানা থেকে ঝুট বের করতে গেলে স্থানীয় আরেক পক্ষ বাধা দেয়।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীদের অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় এবং ঝুটবোঝাই একটি ট্রাক ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, ঝুট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে শরীফ আজাদ পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।