উখিয়ায় গরুর বাজারে চাঁদাবাজি, মুখোমুখি ২ গ্রুপ

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও হাসিল আদায়কে কেন্দ্র করে সরকারদলীয় প্রভাবশালী দু’টি গ্রুপ শক্তি প্রদর্শনে নেমেছে।

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া (কক্সবাজার)

Location :

Ukhia
কোরবানির হাট
কোরবানির হাট |নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারের উখিয়ায় টিভি টাওয়ার সংলগ্ন দু’টি অস্থায়ী গরুর বাজারকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, অবৈধ বাজার পরিচালনা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে দুই পক্ষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও হাসিল আদায়কে কেন্দ্র করে সরকারদলীয় প্রভাবশালী দু’টি গ্রুপ শক্তি প্রদর্শনে নেমেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উখিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী টিভি টাওয়ার এলাকার পূর্ব পাশে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা এবং পশ্চিম পাশে উখিয়া উপজেলা। এই সীমান্তঘেঁষা এলাকায় পাশাপাশি গড়ে উঠেছে দু’টি অস্থায়ী গরুর বাজার। তবে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে বাজার বসানো হলেও সড়কের ৩০০ গজের মধ্যে পশুর হাট বসানো যাবে না, এমন আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে বাজার দু’টিকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। ফেসবুক লাইভে এসে আনোয়ার সিকদার অভিযোগ করেন, উখিয়া যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম গরুর বাজারে চাঁদাবাজি করছেন এবং প্রভাব খাটিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে সাইফুল ইসলামের দাবি, ঘুমধুম টিভি টাওয়ার সংলগ্ন বাজারটি সম্পূর্ণ অনুমোদনহীন।

তিনি অভিযোগ করেন, তাদের পরিচালিত বৈধ বাজারে হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলবল নিয়ে এসে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দু’টি বাজার ছাড়াও পালংখালী ইউনিয়নে চারটি বৈধ গরু বাজার রয়েছে। তেলখোলা গরু বাজার সরকারীভাবে অনুমোদন নেয়া হয়নি। গরু প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। বাজার ইজারা ও হাসিল আদায়ের নামে কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে ব্যবসায়ী ও খামারিরা আতঙ্কে রয়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত হাসিলের বাইরে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গরু বাজার থেকে হাসিল দিয়ে গরু নিয়ে যাওয়ার পরও বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজরা অবৈধভাবে টাকা আদায় করছে, এ বিষয়টি প্রথমে আমি সাংবাদিকদের জানিয়েছি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।’

তিনি আরো বলেন, ‘চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্ব্যযকর ব্যবস্থা নেয়া।’

এদিকে গত ২৪ মে বালুখালী কাস্টম গরুর বাজারে র‌্যাব ১৫ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, গরুর বাজারকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি বন্ধ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঈদ সামনে রেখে গরুর বাজারে প্রভাব বিস্তার ও অবৈধ অর্থ আদায়ের প্রতিযোগিতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।