রাজবাড়ী সদরে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ওয়াগনের সাথে যাত্রীবাহী বাস, মাহেন্দ্র ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় তিনটি যানবাহনের চালকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ (৪৫) ও রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় ব্রাক পাড়া এলাকার মতি পাটোয়ারীর ছেলে মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী (৫০)। তারা দুজনই মাহিন্দ্রার যাত্রী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর পাওয়ার প্লান্টে তেল সরবরাহ শেষে ৩০টি ওয়াগন নিয়ে একটি তেলবাহী ট্রেন রাজবাড়ীর দিকে ফিরছিল। খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রমের আগে ট্রেনটির পেছনের ছয়টি ওয়াগনের সংযোগকারী চেইন ছিঁড়ে মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এ সময় ট্রেনটি সম্পূর্ণ চলে গেছে মনে করে গেটম্যান রেলগেট খুলে দেন। ঠিক তখনই গোয়ালন্দ মোড় থেকে দৌলতদিয়া ঘাটগামী আনন্দ ডিলাক্সের একটি যাত্রীবাহী বাস, গোয়ালন্দমুখী একটি মাহেন্দ্র এবং বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এদিকে পেছন থেকে গড়িয়ে আসা বিচ্ছিন্ন ওয়াগনের সাথে তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষ হয়। বাস, মাহেন্দ্র ও অটোরিকশার অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে দুইজনের ফরিদপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এছাড়া আশঙ্কাজনক রয়েছে আরো দুইজন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গুরুতর আহত চারজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আহত আরো কয়েকজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণে রাজবাড়ী-ঢাকা রুটে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। খবর পেয়ে খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, আহলাদীপুর হাইওয়ে থানা, জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো: শামীম মোল্লা বলেন, ‘আমরা রাত পৌনে ৯টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘তেলবাহী ট্রেনের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পেছনে থেকে যায়। সামনের অংশ চলে যাওয়ার পর রেলগেট খুলে দেয়া হলে বাস, মাহেন্দ্র ও অটোরিকশা রেললাইন পার হওয়ার সময় বিচ্ছিন্ন ওয়াগনের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে মাহেন্দ্রটি ছিটকে সামনে চলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।’



