সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনের অর্ধকোটি টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় বিকাশ কর্মীসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে নিজেদের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পেস্টে এ তথ্য জানায় পুলিশ।
গ্রেফতার নয়জন হলেন— দক্ষিণ সুরমা শেখপাড়ার শাহেদ আহমদ (৪২), কমলগঞ্জের কামাল হোসেন (৩৫), কানাইঘাটের আদনান (৩৮) ও আবু তাহের (২৬), জকিগঞ্জের রুপায়ন বিশ্বাস (৪০), দক্ষিণ সুরমার রোমান আহমদ (৪৪), রাজনগরের সালমান আহমদ (২৮), বিশ্বনাথের গোলাম শহীদ (২৯) ও কানাইঘাটের জুনায়েদ (২২)।
এর মধ্যে শাহেদ আহমদ বিকাশের সিলেট অঞ্চলের সুপারভাইজার, আদনান (৩৮), আবু তাহের (২৬) ও রুপায়ন বিশ্বাস (৪০) ডিএসও।
ভুক্তভোগী সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের সিলেট বিভাগীয় ডিস্ট্রিবিউটর। ব্যাংক বন্ধ থাকায় শুক্রবার (৮ মে) সকালে নিজ কর্মীদের দিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের দিতে ৮১ লাখ ৮২ টাকা নিয়ে প্রাইভেটকারে করে পাঠান নাসিম। এরপর দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে ছিনতাইকারীরা ৫০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা লুটে নেয় বলে অভিযোগ তার।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে লালমাটিয়া এলাকায় পৌঁছালে তিনজন আরোহীর একটি মোটরসাইকেল বিকাশের টাকা বহনকারী গাড়িটিকে থামার সঙ্কেত দেয়। তখন গাড়ির ড্রাইভার গাড়ির গতি কমালে মোটরসাইকেল আরোহীরা গাড়িটি থামিয়ে গাড়িতে থাকা সকলকে ভয়ভীতি, হুমকি প্রদর্শনসহ একজনকে মারপিট করে পাঁচটি ব্যাগে থাকা ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
সিলেট মহানগর পুলিশের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, অভিযোগ রয়েছে, গাড়িতে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিস্থিতির ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও গাড়ির গতি কমিয়ে টাকা ডাকাতির সুযোগ সৃষ্টি করেন। এছাড়া টাকাবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্কর্ট সদস্য রোমান আহমদ (৪৪), সালমান আহমদ (২৮), গোলাম শহীদ (২৯) ও জুনায়েদ (২২) ঘটনার সময় গাড়ির সাথে উপস্থিত ছিলেন না, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, অজ্ঞাত পরিচয় ডাকাতদের সাথে আঁতাত করে টাকাবাহী গাড়ির গতিবিধি সম্পর্কে অগ্রিম তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে টাকা ডাকাতির ঘটনায় বিকাশের কর্মীরা জড়িত থাকতে পারেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোগলাবাজার থানা পুলিশ নয়জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।



