কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে শয্যাসঙ্কট থাকায় মেঝেতেই চলছে চিকিৎসা। গত ২৪ ঘণ্টায় কুমেক হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে আরো ২৩ শিশু।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে হাসপাতাল গিয়ে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ থেকে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আসা ৭ জন শিশু চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। সকাল পর্যন্ত মোট হামে আক্রান্ত হয়ে ১১২ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে ৫৯ জন শিশু আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
কুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে রয়েছে ৪০ শয্যা। হঠাৎ করে হামের রোগী বেড়ে যাওয়ায় মেঝেতেই চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
কুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা: মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, ‘আমাদের শিশু বিভাগের মোট শয্যা আছে ৪০টি। হামে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া যায় না। এতে অন্য শিশুরা এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকেও এ নিয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে নিচতলায় ও ২য় তলায় মোট দু’টি ওয়ার্ড প্রস্তুত করে হামে আক্রান্ত শিশু রোগীদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি। শয্যা সঙ্কটের কারণে মেঝেতে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তবে আমাদের এখানে পর্যাপ্ত ডাক্তার আছেন।’
কুমেক হাসপাতালে ১৮ মাসের শিশু হুমায়রাকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হুমায়রার মা বলেন, ‘ওয়ার্ডে শয্যা না থাকায় মেঝেতেই আমার মেয়ের চিকিৎসা চলছে। আমার মেয়ে এখন আগের তুলনায় সুস্থ।’
কুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের ২য় তলায় আইসেলেশন ওয়ার্ডে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা থেকে আসা শিশু রোগীর মা জানান, জন্মের পর আমার সন্তানকে কোন টিকা দেয়া হয়নি। এখন সে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
কুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রফেসর ডা: কাওসার হোসেন জানান, পাঁচ বছরের নিচের শিশুরাই হামে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। পি আই সি ইউ না থাকায় এ পর্যন্ত এখান থেকে তিনজন শিশুকে রেফার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, কুমিল্লায় এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে কোন রোগী মারা যায়নি। এই পর্যন্ত ৫০ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।
কুমিল্লা গোমতী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমাদের এখানো শিশু রোগীদের জন্য এন আই সি ইউ রয়েছে। নয়জন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হাসপাতালে শিশু রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। হামে আক্রান্ত শিশুরাও চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে।’
কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা: আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, নয় মাস থেকে দুই বছরের যে সকল শিশু হামের টিকা নেয়নি তাদেরকে আমরা টিকা দিচ্ছি।
তিনি আরো জানান, গত ৫ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম চলছে। কুমিল্লা জেলা প্রথম ধাপে টিকা পায়নি। আগামী ৩ মে কুমিল্লা জেলায় টিকা পাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও আমরা ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াচ্ছি। কুমিল্লার সকল উপজেলায় রুটিন টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।



