সিলেট বিভাগের ১৯ আসনে ৩৫ জনের মনোনয়ন বাতিল

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

Location :

Sylhet
সংগৃহীত

সিলেট ব্যুরো ও মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের ১৪৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থী হয়েছেন ১০৩ জন। একইসাথে ৭ জনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারী) বিভাগের জেলাগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তাগণ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থগিত ঘোষণা করেন। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিলের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থগিত হওয়াদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে রোববার (৪ জানুয়ারি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলার ৬টি আসনের ৪৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ও ৭ জনের মনোনয়নপত্র স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের ৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনের ৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলার ৪টি আসনের ২৯জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় বাতিল করা হয়েছে ১০ জনের মনোনয়নপত্র।

সিলেট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলার ৬টি আসনের ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। একইসাথে ৭ জনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারী) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: সারোয়ার আলম যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থগিত করেন।

সিলেটের ৬টি আসনে ৭ জনের মনোনয়ন বাতিল ও স্থগিত ৭
সিলেট জেলার ৬টি আসনে ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে ৭ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৭ জনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।

সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আসনটিতে দুই জনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। এই আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রার্থী এহতেশামুল হক ও বাসদের প্রণব জ্যোতি পালের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।

অপরদিকে এই আসনে বিএনপির একক প্রার্থী দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো: শামীম মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম হাসান ও সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর সঞ্জয় কান্তি দাসের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আসনটিতে দুইজনের মনোনয়ন বাতিল ও ১ জনের স্থগিত করা হয়েছে।

আসনের বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির তাহসিনা রুশদীর লুনা, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ মুনতাসির আলী, জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আমির উদ্দিন এবং গণফোরামের প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো: মুজিবুল হক।

দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার ইলিয়াস ও আব্দুস শহীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। অপরদিকে যাচাই-বাছাইয়ে উপস্থিত না থাকায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জামান আহমদ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ১ জনের স্থগিত করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীগণ হলেন- জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা লোকমান আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, খেলাফত মজলিসের দিলাওয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মুস্তাকিম রাজা চৌধুরী ও মইনুল বাকেরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল মালিকের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।

সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের মনোনয়ন বাতিল ও ১ জনের স্থগিত করা হয়েছে। আসনটিতে বৈধ প্রার্থীগণ বিএনপি থেকে সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, খেলাফত মজলিস থেকে আলী হাসান ওসামা, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাশেদ উল আলম, গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম।

অপরদিকে যাছাই বাছাই শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদের মনোনয়ন বাতিল এবং জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ডালিমের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।

সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আসনটিতে বৈধ প্রার্থীগণ হলেন- বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফিজ আনওয়ার হোসাইন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো: বিলাল উদ্দিন।

এই আসনে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন খালেদের মনোয়ন বাতিল করা হয়েছে।

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ও ২ জনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। আসনটিতে বৈধ প্রার্থীগণ হলেন- বিএনপির প্রার্থী জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও জাতীয় পার্টির আব্দুন নুর।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জমিয়ত নেতা মাওলানা ফখরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপি প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমানের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে ১৩ জনের মনোনয়ন বাতিল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা ৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে তাদেন মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। বেলা ১১টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সম্মেলনে কক্ষে মনোনয়ন যাচাই বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় ৫টি নির্বাচনী আসনের প্রার্থী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনে নেজামে ইসলাম পার্টির মুজাম্মিল হক তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুখলেছুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে বৈধ প্রার্থী হলেন বিএনপির আনিসুল হক, কামরুজ্জামান কামরুল, জামায়াতের তোফায়েল আহমদ খান, ইসলামী আন্দোলনের রফিকুল ইসলাম চৌধুরী।

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে প্রস্তাবকারী ভোটারদের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেবের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে যাচাইবাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির নাসির উদ্দিন চৌধুরী, তাহির রায়হান চৌধুরী, জামায়াতের মোহাম্মদ শিশির মনির, খেলাফত মজলিসের মো: সাখাওয়াত হোসেন, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মোহাম্মদ সোয়াইব আহমদ এবং সিপিবির নিরঞ্জন দাস।

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে আয়কর বকেয়া থাকায় এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। প্রস্তাবকারী ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলী, মাহফুজুর রহমান খালেদের ও হুসাইন আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটারনিং ও কর্মকর্তা। এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, জামাতের ইয়াসিন খান, স্বতন্ত্রপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শাহিনুর পাশা চৌধুরী ও খেলাফত মজলিসের শেখ মুশতাক আহমদ।

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আবিদুল হক, খেলাফত মজলিসের মো: আমিরুল ইসলাম ও এলডিপির মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, জামায়াতের অ্যাডভোকেট শামস উদ্দীন, স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো: আজিজুল হক এবং জাতীয় পার্টির নাজমুল হুদা এবং ইসলামী আন্দোলনে মো: শহিদুল ইসলাম।

সুনামগঞ্জের-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে জাতীয় পার্টির মো: জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির মো: মোশাহীদ আলী তালুকদার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: সিরাজুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির কলিম উদ্দিন মিলন, জামাতের আবু তাহির মো: আব্দুস সালাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের মো: আব্দুল কাদির ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো: আজিজুল হক।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, মনোনয়ন যাচাই বাছাই কার্যক্রমে যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের আপিলের সুযোগ রয়েছে।

মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাচাই-বাছাই শেষে মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ৩১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো: তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে এ যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলে। এ সময় চারটি আসনের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। ভোটার তালিকায় ত্রুটি, নির্ধারিত নিয়মে ফরম পূরণ না করা এবং হলফনামায় অসঙ্গতির কারণে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে দাখিল হওয়া ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির নাসির উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের লোকমান আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী বেলাল আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইফুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির আহমদ রিয়াজ ও গণফ্রন্টের মো: শরিফুল ইসলাম।

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন—বিএনপির মো: শওকতুল ইসলাম শকু, জামায়াতে ইসলামীর মো: শাহেদ আলী, স্বতন্ত্র মো: ফজলুল খান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল—মার্কসবাদীর সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মো: আব্দুল মালিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল কুদ্দুস ও স্বতন্ত্র নওয়াব আলী আব্বাছ খাঁন। ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়নপত্রের কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. জিমিউর রহমান চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর-রাজনগর) আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন—বিএনপির এম নাসের রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো: আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান কামালী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির জহর লাল দত্ত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলাল। আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজিনা নাসের ও ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো: ইলিয়াছ হোসাইনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মো: মুজিবুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো: মহসিন মিয়া মধু, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুর রব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শেখ নূরে আলম হামিদ, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন, বাসদের মো: আবুল হোসেন ও জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির প্রীতম দাস।

ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুঈদ আশিক চিশতী ও লন্ডনপ্রবাসী বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন আহমদ জিপুর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং অফিসার মো: তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, যাচাই-বাছাইয়ে নির্ধারিত নিয়ম না মানা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটির কারণে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

হবিগঞ্জের ৪টি আসনে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে হবিগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ২৯ জনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। নানা অসঙ্গতির কারণে বাকি ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে পর্যায়ক্রমে হবিগঞ্জ-১, ২, ৩ ও ৪ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল): এই আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই শেষে ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। স্ট্যাম্পের ওপর হলফনামা দাখিল না করা ও স্বাক্ষর না থাকায় বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ): এ আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। তাদের মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী আফছার আহমদের মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটার তালিকা অসম্পূর্ণ থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়। এছাড়া হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করায় বাসদ মনোনীত প্রার্থী লুকমান আহমদ তালুকদার এবং অসম্পূর্ণ আবেদন ও দলীয় অঙ্গীকারনামায় ত্রুটির কারণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো: নোমান আহমদ সাদীকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ): এই আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। ত্রুটিপূর্ণ আবেদন, যথাযথ স্বাক্ষর না থাকা, তথ্যে গড়মিল ও ট্যাক্স রিটার্ন না থাকায় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত প্রার্থী মো: শাহিনুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর): এ আসনে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই শেষে ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। দলীয় মনোনয়নে গড়মিল থাকায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহ মো: আল আমিন, হলফনামা ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর না থাকা ও ব্যাংক হিসাবের প্রমাণ না থাকায় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট প্রার্থী মো: রাশেদুল ইসলাম খোকন, ১ শতাংশ ভোটার তালিকায় গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: মিজানুর রহমান চৌধুরী, দলীয় মনোনয়নে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে অসঙ্গতির কারণে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি) প্রার্থী মোকাম্মেল হোসেন এবং ভোটার তালিকা ও ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমদ সাজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

জেলা রিটার্নিং অফিসার জানান, যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা আগামী ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।