পাওনা টাকা না দেয়ায় দোকান থেকে জুতা লুট!

অভিযুক্তরা তার দোকানের বেড়া খুলে প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল লুট করে। ওইসব মালামালের মধ্যে তারা কেওয়া বাজারেই জাকিয়া জান্নাত সু-গ্যালারির মালিক এনামুল সরকারের কাছে ৬০ জোড়া জুতা নয় হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Gazipur
গাজীপুরের ম্যাপ
গাজীপুরের ম্যাপ |নয়া দিগন্ত

গাজীপুরের শ্রীপুরে শামসুদ্দিন নামে এক জুতা ব্যবসায়ীর তালাবদ্ধ দোকান থেকে ওয়ার্ড কৃষকদল নেতাদের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকার জুতা লুটের অভিযোগ উঠেছে। পৌর এলাকার স্থানীয় কেওয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শামসুদ্দিন শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় কৃষকদল নেতারা ওই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে জুতা নিয়ে একই বাজারের অপর এক দোকানে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী জানান।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শামসুদ্দিন শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া এলাকার মরহুম আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি কেওয়া বাজারের ইজারাদারদের কাছ থেকে বিধি মোতাবেক সরকারি বিট ভাড়া নিয়ে তিন বছর যাবত জুতার ব্যবসা করে আসছেন।

অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার ফজলু রহমানের ছেলে এবং শ্রীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি এহসানুল হক রাসেল (২৭), সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন (৩৫) এবং মরহুম হাতেম আলীর ছেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আমান মণ্ডল (২৬)।

ভুক্তভোগী শামসুদ্দিন থানায় লিখিত এজাহারে উল্লেখ করেন, শারিরীক অসুস্থতার কারণে তিনি দেড় মাস যাবত দোকান বন্ধ রেখে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোববার বেলা ১১টার দিকে অভিযুক্তরা তার দোকানের বেড়া খুলে প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল লুট করে। ওইসব মালামালের মধ্যে তারা কেওয়া বাজারেই জাকিয়া জান্নাত সু-গ্যালারির মালিক এনামুল সরকারের কাছে ৬০ জোড়া জুতা নয় হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘অভিযুক্তদের ভয়ে আমি স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারি না। তাদের হুমকির কারণে আমি দোকানে যেতে পারি না।’

জাকিয়া জান্নাত সু-গ্যালারীর মালিক এনামুল সরকার জুতা কেনার কথা স্বীকার করেন বলেন, ‘রাসেল এবং ইসমাইল হোসেন আগেই আমাকে জানায় তারা কয়েক জোড়া জুতা বিক্রি করবে। আমি যেহেতু জুতার ব্যবসা করি। তাই তাদের প্রস্তাবে জুতা কেনার জন্য রাজি হই। পরে তারা আমার দোকানে ৬০ জোড়া জুতা নিয়ে আসে। তাদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা দরে ৬০ জোড়া জুতা নয় হাজার টাকায় কিনে রাখি। জুতাগুলো এখনো আমার দোকানে আলাদাভাবে রাখা আছে।’

শ্রীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি অভিযুক্ত এহসানুল হক রাসেল বলেন, ‘আমি জুতা ব্যবসায়ী শামসুদ্দিনের কাছে টাকা পাব। সে আমার পাওনা টাকা না দিয়ে দুই থেকে তিন মাস যাবত দোকান বন্ধ করে রেখেছে। আমার সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগও করছে না। পরে আমি তার দোকান থেকে জুতা বের করে কেওয়া বাজারের জাকিয়া জান্নাত সু-গ্যালারীর মালিক মোহাম্মদ এনামুলের কাছে ৬০ জোড়া জুতা নয় হাজার টাকায় বিক্রি করি।’

শ্রীপুর উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক ডা: মুজাহিদুল কবির এ বিষয়ে বলেন, ‘এরকম একটি ঘটনা আমি শুনেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা পৌর কৃষকদলের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।’

তাদের বিষয়ে পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক শাজাহানের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

শ্রীপুর পৌর কৃষকদলের আহ্বায়ক শাজাহান বলেন, ‘আমি আপনার (সাংবাদিকের কাছে) মাধ্যমে বিষয়টি শুনলাম। আমি আগে পরে কিছুই জানি না। তবে বিষয়টি জানতে পারলাম, আমি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানব।’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’