বাগেরহাটের মোংলায় সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান (জালিবোট) মালিকদের ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। পর্যটকবাহী নৌযান নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য নৌপরিবহন অধিদফতর ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানের প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করছে মালিকপক্ষ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটে দিনব্যাপী ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় সুন্দরবনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা পড়েছেন বিপাকে।
এর আগে গত রোববার (৪ জানুয়ারি) মোংলা ঘাট থেকে সুন্দরবনের করমজল ও বনের অন্যান্য এলাকায় চলাচলকারী পর্যটকবাহী ট্রলার ও জালিবোটকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হয়। প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছে জালিবোট মালিকদের মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘ।
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের দাবি, মোংলায় পর্যটকবাহী ৪০০ জালিবোট রয়েছে। প্রতিটি বোটের ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু তারপরও হঠাৎ করে গতকাল অভিযান চালিয়ে তাদের অন্তত ৩০টি জালিবোটের ওপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে সেসব মালামাল নিয়ে যায় নৌপরিবহন অধিদফতর (খুলনা)। এতে বোটের সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে বসার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এর প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বোটমালিকেরা।
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘আমরা মূলত ফরেন শিপের জালিবোট সংস্কার করে পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করি। কোস্ট গার্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের বোটে মাত্র ১০ জন পর্যটক যাতায়াত করে। আমাদের সকল প্রকার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমরা ট্রেড লাইসেন্স করেছি, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নিয়েছি। কিন্তু এখন হঠাৎ করে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ আমাদের লাইসেন্স করতে বলছে। যেখানে প্রতিবছর ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর।’
ঈশ্বরদীর পাবনা থেকে ঘুরকে আসা সোহান বলেন, ‘পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে মোংলার পিকনিক কর্ণারে আটকে গেছি। গাড়ি থেকে নামার পর শুনছি সুন্দরবনে যাতায়াতারে একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ অন্যান্য নৌযানের ধর্মঘট চলছে। তাই হতাশা নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যাচ্ছি।’
দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা আবু হাসান বলেন, ‘মেয়ের শখ পূরণ করতে সুন্দরবনের উদ্দেশে আসছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ, তাই আমরা আর সুন্দরবনে যেতে পারছি না। কি করবো আর, ফিরে যেতে হবে এখন। আসাটাই বৃথা হলো।’
সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আজাদ কবির বলেন, ট্রলারমালিকেরা ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে কোনো নৌযান বা পর্যটক আসেনি।
নৌপরিবহন অধিদফতর, খুলনার পরিদর্শক মো: রাশেদুল আলম বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী ১৬ হর্স পাওয়ার বা এর বেশি পাওয়ারের ইঞ্জিন ব্যবহারকারী সব নৌযানকে নৌপরিবহন অধিদফতরের লাইসেন্সের আওতায় আসতে হবে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদফতর যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে।’



