খুলনায় লেক থেকে মাদরাসাছাত্রের লাশ উদ্ধার, ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা

সোয়েব প্রায়ই কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত। গত বুধবার বিকেলেও কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে যায়। রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়।

খুলনা ব্যুরো

Location :

Khulna

খুলনার পুলিশ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) একটি লেক থেকে সোয়েব নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে। সকাল ৯টার দিকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়। অন্য এক ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টাকারী তার কিশোর কর্মচারীকে গ্রেফতারের পর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মৃত কিশোর সোয়েব সোনাডাঙ্গা বয়রা ক্রস রোডের বাসিন্দা হাসিব মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র ছিল।

নগরীর হরিণটানা থানার এসআই জাহাঙ্গীর মোল্লা পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে বলেন, সোয়েব প্রায়ই কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত। গত বুধবার বিকেলেও কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে যায়। রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। সকালে তার লাশ ময়ুরী এলাকার একটি লেকে ভাসমান অবস্থায় দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে সোয়েবের বাবা-মা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

কেক ব্যবসায়ীকে হত্যার চেষ্টা

টাকার লোভে কেক ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সাইফকে (১৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে তাকে সোনাডাঙ্গা থানার আলীর ক্লাব সংলগ্ন তমিজ উদ্দিন সড়ক থেকে গ্রেফতার করা হলেও ঘটনাটি বৃহস্পতিবার দুপুরে জানাজানি হয়।

সোনাডাঙ্গা থানার এসআই লতিফা রহমান পপি জানান, সাইফ সেপারেটেড ফ্যামেলির সন্তান। বাবা-মা দুইজনই অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছে। এরপর থেকে কিশোর ছেলেটি ভবঘুরে জীবনযাপন করতে থাকে। অন্যদিকে থানার তমিজউদ্দিন সড়কের ঝন্টু শিকদারের বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে কেকের ব্যবসা করেন ইমরান নামে এক ব্যক্তি। ২০ দিন আগে সাইফকে তিনি কাজে নিয়ে আসেন। সাইফ নগদ টাকার লোভে তাকে হত্যার চেষ্টা চালায় বলে থানায় অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী ইমরান।

তবে কিশোর সাইফ পুলিশকে বলছে, কয়েকদিন ধরে ওই গলির একজন রাতের আঁধারে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কেক ব্যবসায়ী ইমরানকে হত্যার জন্য তাকে বলে। এতে সে রাজি না হলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। পরে গত বুধবার ভোরে কেক কাটার ছুরি দিয়ে ব্যবসায়ীর গলায় আঘাত করে। এতে তার চামড়া কেটে যায়। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় ঝন্টু শিকদারের বাড়িতে হুলস্থুল সৃষ্টি হলে লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেয়। ফোন পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ তাদের দুইজনকে থানায় নিয়ে আসে।

এসআই লতিফা আরো বলেন, বুধবার বিকেলে সাইফকে নারী শিশু আদালত-৩-এ নেয়া হলে সংশ্লিষ্ট আদালত তাকে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।