কুমিল্লায় সাবেক এমপি বাহার ও মেয়র সূচনাসহ ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যামামলা

সাবেক এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তার মেয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনাসহ ১৪৭ জনের নামে হত্যামামলা হয়েছে।

হাবিবুর রহমান চৌধুরী, কুমিল্লা

Location :

Cumilla
সাবেক এমপি বাহার ও মেয়র সূচনা
সাবেক এমপি বাহার ও মেয়র সূচনা |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মামুন আহমেদ রাফসান নামে এক হোটেল কর্মচারীকে গুলি করে হত্যার করা হয়। এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর আসনের সাবেক এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তার মেয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনাসহ ১৪৭ জনের নামে হত্যামামলা হয়েছে। এছাড়া মামলায় আরো ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

বুধবার (২৮ মে) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মহিনুল ইসলাম।

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ মে) রাতে এ মামলা করেন নিহতের ভাই রানু মিয়া। তিনি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মো: ছালেক মিয়ার ছেলে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ক্যান্টনমেন্ট ওভারব্রিজের নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তৎকালীন এমপি বাহার ও তার মেয়ে সূচনার হুকুমে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পিস্তল, একনালা বন্দুক, শর্টগান, রাইফেল, হাতবোমা, ককটেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। তাদের এলোপাতাড়ি গুলি ও ককটেলের বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন।

এ সময় আন্দোলনে অংশ নেয়া ক্যান্টনমেন্ট মার্কেটের হোটেল কর্মচারী মামুন আহমেদ রাফসান (১৮) গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মামলায় আলোচিত অন্য আসামিরা হলেন- আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাদম টুটুল, সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাবলু, বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সহিদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম রিন্টুসহ বেশ কয়েকজন সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ মামুন হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর তার স্বজনরা খবর পেয়ে লাশ হবিগঞ্জ নিয়ে দাফন করে। পরে পরিবার মামলা করতে আসেনি। সম্প্রতি সরকারি গেজেটে শহীদ তালিকায় ওই ব্যক্তির নাম আসায় পরিবারের পক্ষ তার ভাই মামলাটি করেন।