সদরপুরে স্কুলের উপর ৪ মাস ধরে ভেঙে পড়ে আছে বিশাল গাছ, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

সদরপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘরের ওপর ৪ মাস গাছ পড়ে থাকায় পাঠদান বন্ধ ও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে।

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা

Location :

Shibchar
সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেমিপাকা ভবনের ওপর পড়ে ৪ মাস ধরে ভেঙে পড়ে আছে বিশাল আকৃতি গাছ
সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেমিপাকা ভবনের ওপর পড়ে ৪ মাস ধরে ভেঙে পড়ে আছে বিশাল আকৃতি গাছ |নয়া দিগন্ত

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেমিপাকা ভবনের ওপর কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়া বিশাল আকৃতির একটি চাম্বল গাছ প্রায় চার মাসেও অপসারণ করা হয়নি। এতে ঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট কক্ষে পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি গাছের ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠের বড় একটি অংশ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যার ফলে ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, সেমিপাকা স্কুল ঘরটির ওপর বিশাল আকৃতির গাছটি উপড়ে পড়ে রয়েছে। এতে ঘরটির বেশিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। গাছের ডালপালা বিদ্যালয়ের মাঠের একটি বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার স্বাভাবিক পরিবেশ ও জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের পেছনে থাকা বিশাল আকৃতির চাম্বল গাছটি টিনশেড ঘরের উপর ভেঙে পড়ে। এতে ঘরটির বেশিভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে ওই কক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ঘটনার প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও গাছটি এখনো অপসারণ করা হয়নি।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গাছটি সরকারি হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি ছাড়া তা অপসারণ করা সম্ভব নয়। ফলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটি চাইলেও নিজেদের উদ্যোগে গাছটি সরাতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গাছটি পড়ে থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ভেঙে পড়া ঘর ও গাছের কারণে যেকোনো সময় শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত গাছটি অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেমিপাকা ঘরটি মেরামতের দাবি জানান তারা।

সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শাহিদুর রহমান বলেন, গত মে মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে স্কুল ঘরের পেছনে থাকা বিশাল আকৃতির একটি চাম্বল গাছ ভেঙে পড়ে। ঘটনার দু’দিন পরই সরকারি বিধি মেনে গাছটি দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত গাছটি অপসারণ করা হয়নি। ওই ঘরে শিশু শ্রেণির ক্লাস নেয়া হতো এবং আমাদের অফিস রুমও ছিল।

তিনি বলেন, গাছটি সরিয়ে ভেঙে পড়া টিনশেড ঘরটি মেরামত করা হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সহজ হবে। পাশাপাশি গাছের ডালপালা পড়ে থাকায় মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলাও করতে পারছে না।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মামুনুর রশিদ বলেন, গাছটি ভেঙে পড়ার কয়েকদিন পরই সরকারি বিধি অনুযায়ী বন বিভাগকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। আশা করছি, বন বিভাগ দ্রুত নিলামের কার্যক্রম শেষ করে গাছটি অপসারণ করবে।