ডোমারে নবজাতক বিক্রি করে সিজারের বিল পরিশোধের চাপ

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা, জনবলের ঘাটতি এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার মতো বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নীলফামারী প্রতিনিধি

Location :

Domar
ডোমারের মমতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার
ডোমারের মমতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার |নয়া দিগন্ত

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক বিক্রির জন্য চাপ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) উপজেলার মমতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক এবং ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফারজানা আফরিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার দক্ষিণ গোমনাতি এলাকার কৃষক রাকিবুল হাসানের স্ত্রী হাবিবা সুলতানা গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে প্রসব বেদনা নিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখানে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। রোববার তাকে ছাড়পত্র দেয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত বিল পরিশোধ করতে না পারায় স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

রাকিবুল হাসান ও হাবিবা সুলতানার দাবি, ভর্তির সময় ২২ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা জোগাড় করতে না পারায় তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং রোগীর ওষুধ দেয়া বন্ধ রাখা হয়। একপর্যায়ে নবজাতক বিক্রি করে বিল পরিশোধের জন্য চাপ দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগী পরিবার আরো জানায়, গত দুই দিন ধরে কয়েকজন ব্যক্তি ক্লিনিকে এসে নবজাতক কিনতে আগ্রহ দেখান। কেউ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব দেন। পরিকল্পনা ছিল, ওই টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা রেখে বাকি অর্থ পরিবারকে দিয়ে শিশুটি হস্তান্তর করা হবে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. ফারজানা আফরিন। তিনি বলেন, নবজাতক বিক্রির কোনো কথা বলা হয়নি; কেবল বিল পরিশোধের বিষয়ে বলা হয়েছিল।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হলে প্রাথমিকভাবে একাধিক অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে মেডিক্যাল অফিসার ডা. সোহান চৌধুরী জানান, নবজাতক বিক্রির অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা, জনবলের ঘাটতি এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার মতো বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।