রাঙ্গামাটিতে বন্যা ও কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

পুলক চক্রবর্তী, রাঙ্গামাটি

Location :

Rangamati
নয়া দিগন্ত

রাঙ্গামাটির বরকলে ও বিলাইছড়িতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ও কাপ্তাই হ্রদের পানির বৃদ্ধিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বরকলে ও বিলাইছড়ির নদীপথের বিভিন্ন পয়েন্টে পানির স্রোত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তীব্র স্রোতে বরকল উপজেলার বড় হরিণা ও কুকিছড়া বাজার ইতোমধ্যে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে নৌযান ব্যবহারকারীদের জন্য লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া নদীপথে যাতায়াত না করার পরার্মশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া, যারা এই সময় ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, বিশেষ করে ঝর্ণা, ঝিরি কিংবা পাহাড়ি এলাকায় সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাদের সাময়িকভাবে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পাহাড়ি ও সমতল এলাকায় বসবাসরতদের মাটি ধসে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই অনেকের ঘরবাড়ি বন্যায় ভেসে গেছে কিংবা মাটি ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধির কারণে বরকলের সুবলং ইউনিয়নের অন্তত দু শ’ পরিবারের পাকা ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সুবল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরুণ জ্যোতি চাকমা। তিনি জানান- সাম্প্রতিক একটানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় পাহাড়ি ঢলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বরকল উপজেলার জুনোপহর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরেশ সুর চাকমা জানান, ঠেগা ও খুব্বাং এলাকায় পাহাড়ি ঢলে ফসলের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর শুনেছি।

ক্ষতিগ্রস্ত ধানচাষীরা বলেন, এ বছর যারা ১০০ বস্তা ধান তোলার আশা করেছিলেন তারা তুলতে পেরেছেন মাত্র ৩০-৪০ বস্তা। হাটু ও কোমর পানিতে ডুবে ধান কেটে তুলে নিতে হয়েছে।

কাপ্তাই হ্রদের পানি আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছি আমরা, বলেন সুবরং ইউনিয়নের হাজাছড়া গ্রামের ধান চাষী শান্তি লাল চাকমা।

কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় বরকল বিলাইছড়ির জলেভাসা জমির ধানচাষীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হ্রদের পানি এখনো বাড়ছে। এতে আরো ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।