দৈনিক নয়াদিগন্ত অনলাইনে চাঁদাবাজির অভিযোগসংবলিত সংবাদ প্রকাশের পর বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই কবির আহমেদ ও কনস্টেবল আসাদুলকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। একইসাথে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নৌ-পুলিশ।
রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মোস্তফা কামাল জানান, ‘বরগুনার বিষখালী-বলেশ্বরে মাছ ধরলেই দিতে হয় চাঁদা, অভিযোগ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে’ শিরোনামে দৈনিক নয়াদিগন্ত অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নেয়া হয়। পরে এএসআই কবির আহমেদ ও কনস্টেবল আসাদুলকে সাসপেন্ড করা হয়।
জানা গেছে, নয়াদিগন্তসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বরিশাল নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মোস্তফা কামালকে তদন্তের জন্য পাথরঘাটার চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠানো হয়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের তদন্ত করছেন।
মো: মোস্তফা কামাল বলেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এএসআই ও পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ফাঁড়ির ইনচার্জও দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো বাহিনী নেবে না; যে অপরাধ করেছে, দায় তারই।
উল্লেখ্য, বরগুনার পাথরঘাটা সংলগ্ন বিষখালী-বলেশ্বর নদীর ভাড়ানী খাল থেকে এই এলাকার প্রায় ৪০ হাজার জেলে পাশের নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায়। এ খাল থেকে যেতে প্রতিনিয়ত নৌ-পুলিশ ফাড়িকে ট্রলার প্রতি ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা দিতে হয়। দীঘ কয়েক বছর ধরে এমন গুঞ্জন থাকলেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যাচ্ছিল না। এ নিয়ে সংবাদিকরা অনুসন্ধানে নামলে বেরিয়ে আসে সকল তথ্য। টাকা গ্রহনের একাধীক কল রেকর্ড এবং ভিডিও হাতে আসে। ঘুষের বিষয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ গজনবীর কাছে কাছে বক্তব্য নিতে গেলে তিনি বিসয়টি অস্বীকার করলেও তার সামনেই সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন আসাদুল নামের এক পুলিশ সদস্য।



