এক ঘণ্টার কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। মাঠজুড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কৃষকের ফসল।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে এ কালবৈশাখী ঝড় হয়।
ঝড়ে ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, ধানের শীষ নুয়ে গেছে, পান বরজ ও আমের গুটি ঝরে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভুট্টা চাষিরা, অনেকের খেত প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৯৭ হাজার ৩৬৯ হেক্টর আবাদকৃত জমির মধ্যে অন্তত ৩৯৫ হেক্টরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভুট্টা ২৬৩ হেক্টর, বোরো ধান ৬০ হেক্টর, কলা ৪১ হেক্টর, পেপে ১১ হেক্টর, আম পাঁচ হেক্টর, সবজি ১২ হেক্টর এবং পান তিন হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক তাদের খেতের ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন। কয়েক মাসের শ্রম, বিনিয়োগ ও আশার ফসল মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। সামনে কীভাবে ক্ষতি পুষিয়ে উঠবেন, তা এখন তাদের প্রধান উদ্বেগ।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মিঠু চন্দ্র অধিকারী জানান, ঝড়-বৃষ্টির ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
এদিকে, রাতের ঝড়-বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ে সড়ক যোগাযোগেও সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।



