জনবল নিয়োগসংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিমেবি) ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক (জেলা জজ) শাহাদাৎ হোসেন প্রামাণিক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাদের সিলেট মেট্রোপলিটন কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুদকের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তারা। পরে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আত্মসমর্পণ করা ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন—সহকারী কলেজ পরিদর্শক মাইদুল ইসলাম চৌধুরী, সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) গোলাম সরওয়ার, সেকশন অফিসার আতিক শাহরিয়ার ধ্রুব, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জুয়েল ও অফিস সহকারী লুৎফা বেগম।
নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে তৎকালীন ভিসি, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ ৫৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল মামলা করা হয়। ওই বছরের ২৫ এপ্রিল ৫৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। মামলায় তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো: নঈমুল হক চৌধুরী ছাড়া আরো ৫৬ জন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ২১ জন জামিনে রয়েছেন। ৭ জন কারাগারে আছেন। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
মামলায় ৫৬ জনের বিরুদ্ধে ১ বছরের বেশি বেতন-ভাতা নেয়ার অভিযোগ ও অ্যাডহক নিয়োগের মেয়াদ বৃদ্ধির অভিযোগ আনা হয়েছে। শুধু ৫৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ১ বছরের বেশি বেতন-ভাতা নেননি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীই ১ বছরের বেশি বেতন-ভাতা নিয়েছেন। এছাড়া অ্যাডহকের নিয়োগ বৃদ্ধিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো দায় নেই।
সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে কর্তৃপক্ষ এই নিয়োগ দেয়। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের অনুদান থেকে বেতন-ভাতা নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু একজন চাকরিজীবীর সেটা বোঝার কোনো উপায় নেই, তাকে কোন খাত থেকে বেতন দেয়া হচ্ছে; সেটা একমাত্র নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে। সুতরাং ৫৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
তার বলছেন, যদিও এই ধারায় চাকরিজীবীর ওপর মামলা দায়ের করার সুযোগ নেই। তবে এই ধারায় মামলা হলে ২৪২ জনই আসামি হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা না করে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।



