ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধে বাংলাদেশী যুবক নিহত

জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে সিঙ্গাপুর পাড়ি জমান আব্দুর রহিম। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি রাশিয়ায় চলে যান।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
নিহত আব্দুর রহিম
নিহত আব্দুর রহিম |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ২ নম্বর পুটিজানা ইউনিয়নের পু‌টিজানা গ্রামের বাসিন্দা মো: আব্দুর রহিম (২৫) ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

সোমবার (১১ মে) তার মৃত্যুর সংবাদ পরিবারের কাছে পৌঁছায়।

তিনি ওই গ্রামের মো: আজিজুল হকের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে সিঙ্গাপুর পাড়ি জমান আব্দুর রহিম। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি রাশিয়ায় চলে যান। রাশিয়ায় অবস্থানকালে চু‌ক্তি‌ভি‌ত্তিক সেখানকার সামরিক বাহিনীর সাথে যুক্ত হন বলে জানা যায়। গত ২ মে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর পক্ষে লড়াই করার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার ( ১১ মে) তার মৃত্যুর সংবাদ পরিবারের কাছে পৌঁছায়।

নিহতের বাবা মো: আজিজুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও হঠাৎ করেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সহযোদ্ধা ও পরিচিতদের মাধ্যমে গত ১১ মে রা‌তে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, আব্দুর রহিম ছিলেন পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য। সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে বিদেশে গিয়ে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু তার এমন করুণ মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। গ্রামের মানুষজন তার বাড়িতে ভিড় করছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।

এদিকে নিহতের পরিবার সরকারের কাছে সহযোগিতা ও লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

তারা বলেন, অন্তত প্রিয়জনের মুখটি শেষবারের মতো দেখতে চান তারা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনায় যাতে আর কোনো বাংলাদেশী যুবক জড়িয়ে না পড়ে, সে ব্যাপারেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।