ঈদগাঁওতে ৮ মাস ধরে লবণ রফতানি শুল্ক আদায়ে বাধা

প্রায় আট মাস ধরে এ অবস্থা চলছে। এতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন ইজারাদাররা।

আতিকুর রহমান মানিক, ঈদগাঁও (কক্সবাজার)

Location :

Eidgaon
লবণ শিল্প জোন
লবণ শিল্প জোন |নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ের অন্তর্গত দেশের বৃহত্তম লবণ শিল্প জোন ইসলামপুর শিল্প এলাকায় লবণ রফতানি শুল্ক আদায়ে বাধা দিচ্ছেন স্থানীয় চাঁদাবাজ ও দুর্বৃত্তরা। এতে ইজারা ও মূল্যবান সরকারি রাজস্ব আদায়ে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায় আট মাস ধরে এ অবস্থা চলছে। এতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন ইজারাদাররা।

স্থানীয়রা জানায়, ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ওই ইজারা এতদিন স্থানীয় ট্রান্সপোর্ট মালিকদের একটি পারিবারিক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। কিন্তু গত বছরের ১৩ এপ্রিল পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মিলিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক উক্ত শুল্ক আদায়ের জন্য উন্মুক্ত ইজারার ঘোষণা দেয়া হয়। এতে পাঁচজন সর্বোচ্চ ডাকদাতা শুল্ক আদায়ের দায়িত্ব পান। ডাক করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়।

কিন্তু এতে ক্ষুব্ধ হয় আগের পারিবারিক সিন্ডিকেট। তারা বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগ করে লবণ রফতানি শুল্ক আদায়ে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে আসছে। এর ফাঁকে লবণবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করছেন ট্রান্সপোর্ট মালিকরা।

ইজারা গ্রহীতা নূরুল আমিন রশিদুল ইসলাম ও মনির আহমদ জানান, গত বছরের ৩০ এপ্রিল তারা শুল্ক আদায়ের কার্যাদেশ পেলেও চাঁদাবাজদের বাধায় এ যাবৎ কোনো শুল্ক আদায় করতে পারেননি।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে এ ব্যাপারে বৈঠক হয়। তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশক্রমে দুই মাস ইজারা আদায় করেন তারা।

কিন্তু গত মাসে সরকার পরিবর্তনের পরে আবার ইজারা আদায়ে বাধা দেয় আগের দুষ্কৃতিকারীরা। ফলে বিগত আট মাসে ইজারাদাররা বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে উক্ত ইজারা প্রদান করা হয়। কিন্তু স্থানীয় দুর্বৃত্তরা ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।’