হ্যাঁ ভোটেই জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব : পার্বত্য উপদেষ্টা

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ি টাউন হলে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রফিকুল ইসলাম রকি, খাগড়াছড়ি

Location :

Khagrachari
সুপ্রদীপ চাকমা (মাঝে)
সুপ্রদীপ চাকমা (মাঝে) |নয়া দিগন্ত

অন্তর্বর্তকালীন সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, ‘এ রাষ্ট্রের সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসন, দুদকসহ বর্তমান রাষ্ট্রের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে আমাদের একটি আধুনিক রাষ্ট্র দরকার। জুলাই যোদ্ধারা সে রাষ্ট্রের স্বপ্নই দেখেছিলেন। আর সেই স্বপ্নের দলিল হলো- জুলাই জাতীয় সনদ। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলেই কেবল জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব।’

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ি টাউন হলে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন দেখতে চাই। কিন্তু কেউ যেন নিজের ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করতে না পারে। ক্ষমতার পালাবদলের পুরাতন ব্যবস্থা যেন আর না থাকে। সেই জন্য এ দেশকে একটি গণতান্ত্রিক দেশ বানাতে হবে। দেশের মানবিক মর্যাদা সংরক্ষণ করতে হবে, সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরো মজবুত করতে হবে। এটা করার জন্যেই গণভোটের আয়োজন। আপনারা আনন্দের সাথে গণভোটে অংশ নেবেন। চিন্তা করবেন- হ্যাঁ ভোট দিলে কী হবে, আর না ভোট দিলে কী হবে?’

জুলাই সনদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জুলাই যোদ্ধারা যে স্বপ্ন দেখেছিল তা বাস্তবায়ন করতে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য ১১টি কমিশন করা হয়েছিল। পরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে জুলাই সনদ প্রণয়ন করে অন্তর্বর্তী সরকার সেই সব কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এ দেশের মানুষ যেভাবে জুলাই আন্দোলনকে গ্রহণ করেছিল ঠিক সেভাবে এবারের নির্বাচনে গণভোটে অংশগ্রহণ করবে, যাতে করে সংসদ সদস্যরা জুলাই সনদ অনুযায়ী কাজ করতে পারে।’

সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এবার আগের মতো ভোট হবে না। ভোট কেন্দ্রে কেউ ইচ্ছেমতো জোর জবরদস্তি করতে পারবে না। ভোট কেন্দ্রে যত পুলিশ থাকবে, প্রত্যেকের শরীরে বডি ক্যামেরা সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। পাশাপাশি ৯০ ভাগ কেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা থাকবে। আমরা চেষ্টা করছি শতভাগ কেন্দ্রকে ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে। এছাড়া দেশি ও আন্তর্জাতিক অসংখ্য পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।’

এ সময় তিনি পরিবর্তনকে গ্রহণ করে হ্যাঁ-ভোট ও না-ভোটের ব্যাপারে সচেতন হয়ে ভোট দিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে গণভোটের প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাতের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: মনিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সভায় জেলার বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, জুলাই যোদ্ধা, ছাত্র প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।