মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পৃথক দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় পানিতে ডুবে এক নারী ও এক শিশুসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার দুপুরে ও বিকেলে উপজেলার গাঁওদিয়া ও বৌলতলী ইউনিয়নে মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ দুই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
থানা পুলিশ, স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের শামুরবাড়ি এলাকায় বাড়ির পাশের পদ্মা নদীতে কাপড় ধোয়ার জন্য যান ববিতা আক্তার (৩২)। কাপড় ধোয়া শেষে তিনি নদীতে গোসল করতে নামেন। এ সময় নদীর প্রবল স্রোতে তিনি ভেসে যান। অনেকক্ষণ তাকে ঘাটে না দেখে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নদীতে ভাসতে দেখা যায় তাকে। পরে পরিবারের লোক ও স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে দ্রুত উদ্ধার করে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুপুরের দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ববিতা আক্তার একই গ্রামের শরীফ শিকদারের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে আরিফা নামে সাড়ে ৭ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই এলাকার আওলাদ শেখের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারের সদস্যদের অজান্তে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় আরিফা। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে রাতে লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বোরহান-উল-ইসলাম নয়াদিগন্তকে জানান, মৃত গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ বিনা ময়নাতদন্তে দাফনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে লৌহজং থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে পানিতে ডুবে মৃত শিশুর বিষয়টি আমি এখন পর্যন্ত অবগত নই। পারিবারিকভাবেই হয়তো তারা বিষয়টি থানায় জানায়নি।



