রাঙামাটির লংগদুতে এক মাস না পেরোতেই ধসে পড়ে ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়ক। ঘটনার পর দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস মিললেও সংস্কারের দৃশ্যমান কোনো কাজ নেই। বরং সময়ের সাথে সাথে ভাঙন আরো ছড়িয়ে পড়ছে। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা।
২০২৫ সালের মে মাসের শেষ দিকে হালকা বৃষ্টিতে মাইনী মুখ ইউনিয়নের উত্তর সোনাই এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন নির্মিত সড়কের একাংশ রিটেইনিং ওয়ালসহ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় জুড়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
উপজেলা প্রকৌশল দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ঠিকাদারের জামানতের টাকা থেকে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে সংস্কারের কোনো চিহ্ন নেই বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
আশপাশের মাটি সরে গিয়ে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে সড়কের আরো কয়েকটি অংশে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির ঘাটতির কারণেই সড়কটি ধসে পড়ে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়ায় পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্য পরিবহনকারীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: মতিউর রহমান বলেন, ‘ভাঙনের পর অনেক আশ্বাস শুনেছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত একটা ইটও বসানো হয়নি। রাস্তার অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।’
আরেক বাসিন্দার ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘৯৫ লাখ টাকার কাজ এক মাসও টিকল না। এখন মেরামতের কথাও শুধু কাগজে-কলমে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে?’
স্থানীয়দের দাবি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।
ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ত তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
মাইনী মুখ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, ‘এলাকাবাসীর যাতায়াতের ভোগান্তি দেখে অনেক দৌড়াদৌড়ি করে প্রকল্পটি আনতে পেরেছিলাম। কিন্তু নিম্নমানের কাজ হওয়ায় রাস্তার রিটেইনিং ওয়াল ধসে গেছে এবং নতুন করে আরো অনেকগুলো অংশের ফাটলসহ ভাঙনের দেখা দিয়েছে। অতিদ্রুত কাজটি সংস্কার করে দেয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে লংগদু উপজেলা প্রকৌশলী শামসুল আলম বলেন, ‘আমরা ফাইনাল বিল দিয়ে দিয়েছি। সিকিউরিটি বিল আছে। আমি এক্সিয়েন স্যারকে বলেছি, উনিও বলেছেন ঠিক আছে।’
লংগদু উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী নেজাম বলেন, ‘পানির স্রোতে রাস্তা ভেঙেছে, নিম্নমানের কাজ না। ডিজাইন-মেজারমেন্ট সব ঠিক আছে। আমরা ঠিকাদারকে চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কল দিলে ঠিকাদার ধরেন না।’



