ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠি জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের তীব্র সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন শতাধিক শত মানুষ ভিড় করলেও মিলছে না সরকারি খরচে ভ্যাকসিন সেবা। দোকান থেকে কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র মানুষ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পোষা কুকুর বা বিড়ালের কামড় কিংবা আঁচড় নিয়ে প্রতিদিনই ঝালকাঠি জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা গুলোতে ভিড় বাড়ছে সাধারণ মানুষের। গত এক মাস ধরে এমন অবস্থা বেড়েই চলছে। দু’মাস আগে জেলা শহরে বিড়ালের আঁচড়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
হাসাপালে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ জানায়, প্রতিদিন শিশু-বৃদ্ধসহ শতাধিক মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। বেশিভাগই আক্রান্ত হয়েছেন নিজেদের পোষা বিড়ালের দ্বারা। দীর্ঘ অপেক্ষা করেও মিলছে না ভ্যাকসিন। সরবরাহ কম থাকায় বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু ফার্মেসি থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় ভ্যাকসিন কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার ওপর ফার্মেসিগুলোতে মাঝেমধ্যে সরবরাহ কম থাকায় তৈরি হয় ভ্যাকসিনের তীব্র সঙ্কট।
এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের পোষার ব্যাপারে সবাইকে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে। অপরদিকে জাতীয়ভাবেই ভ্যাকসিনের সঙ্কট রয়েছে জানিয়ে জরুরি ও দরিদ্র রোগীদের জন্য হাসপাতালের স্বল্প স্টক থেকে সাধ্যমতো সেবা দেয়া হচ্ছে বলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা: আবুয়াল হাসান বলেন, ঝালকাঠি জেলা সদর ও অন্য তিনটি উপজেলা নিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০০ মানুষ হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে আসছেন। জাতীয়ভাবেই আমাদের মজুদ কম আছে। তবুও আমাদের সদর হাসপাতালে যে পরিমাণে মজুদ আছে তা দিয়ে অতি দরিদ্র, যাদের দোকান থেকে ভ্যাকসিন ক্রয় করার সক্ষমতা নেই তাদেরকে দেয়া হয়।



