নৌকা ডুবির ৩ দিনেও নিখোঁজ নিরব, স্বজনদের উৎকণ্ঠা

পটুয়াখালীর কোস্ট গার্ডের কমান্ডার মো: জহিরুল হক (সি), বিসিজিএম, বিসিজিএমএস, পিএসসি, বিএন জানান, মহিপুরে নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ জেলের সন্ধানে তারা কাজ করছেন। তবে এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, চরফ্যাশন (ভোলা)

Location :

Char Fasson
নৌকা ডুবির তিন দিনেও নিখোঁজ রয়েছেন নিরব
নৌকা ডুবির তিন দিনেও নিখোঁজ রয়েছেন নিরব |নয়া দিগন্ত

বঙ্গোপসাগরে নৌকা ডুবির তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি চরফ্যাশনের নৌকার মিস্ত্রি নিরব মিয়ার। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর ১৬ জেলের মধ্যে ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন নিরব। এতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তার স্বজনদের।

নিরব মিয়া ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার আছলামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে মিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর থেকে ঘাটে ফেরার পথে মহিপুর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে সাগরের মোহনায় নৌকাটি ডুবে যায়।

নৌকার মালিক মো: ইউসুফ মাল জানান, নৌকায় মোট ১৬ জন জেলে ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও নৌকার মিস্ত্রি মো: নিরব মিয়াকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নৌকার মাঝি রিয়াজ মিয়া জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা নৌকা নিয়ে মহিপুর ঘাটের দিকে রওনা হন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ঢেউয়ের প্রচণ্ড আঘাতে নৌকাটি ডুবে যায়।

তিনি বলেন, আশপাশে অবস্থানরত নৌকার জেলেরা ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জনকে উদ্ধার করেন। এরপর চারদিকে বহু খোঁজাখুঁজি করেও নৌকার মিস্ত্রি নিরব মিয়ার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পটুয়াখালীর কোস্ট গার্ডের কমান্ডার মো: জহিরুল হক (সি), বিসিজিএম, বিসিজিএমএস, পিএসসি, বিএন জানান, মহিপুরে নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ জেলের সন্ধানে তারা কাজ করছেন। তবে এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় চরফ্যাশনের এক জেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না—এমন খবর পাওয়ার পর থেকেই চারদিকে তাকে খোঁজার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি।

চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাহমুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া জানান, পটুয়াখালীর মহিপুর এলাকায় চরফ্যাশনের আছলামপুর ইউনিয়নের নিরব মাঝি নৌকাডুবিতে নিখোঁজ রয়েছেন—এ মর্মে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সন্ধান চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তার সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

তবে নিখোঁজের তিন দিন পরও সন্ধান না পাওয়ায় নিরব জীবিত আছেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তাকে উদ্ধারে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।