অসময়ে যমুনার ভাঙনে হুমকির মুখে বাহাদুরাবাদ নৌ-থানা ও খোলাবাড়ি বাজার

দীর্ঘদিন যাবৎ দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজনী ইউনিয়নের খোলাবাড়ি থেকে চরডাকাতিয়া হয়ে বড়খাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে নদী ভাঙন।

খাদেমুল বাবুল, জামালপুর

Location :

Jamalpur
ভাঙনের চিত্র
ভাঙনের চিত্র |নয়া দিগন্ত

অসময়ে যমুনার ভাঙনে হুমকি মুখে পড়েছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত বাহাদুরাবাদ নৌ-থানা, খোরাবাড়ি বাজার, মসজিদ, মাদরাসা, বাড়িঘরসহ অসংখ্য স্থাপনা। প্রায় দুই মাস আগে থেকে ভাঙন শুরু হলেও ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

তারা জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজনী ইউনিয়নের খোলাবাড়ি থেকে চরডাকাতিয়া হয়ে বড়খাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে নদী ভাঙন।

এতে খোলাবাড়ি, হাজারী, মাগুরীহাট, চর মাগুরীহাট, খানপাড়া, মাঝিপাড়া, ডাকাতিয়া গুচ্ছগ্রাম, চরডাকাতিয়া ও চরডাকাতিয়া পাড়ার কয়েক হাজার বসতভিটা ও শত শত একর ফসলি জমি নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে।

এখন শুষ্ক মৌসুমের অসময়ে গত মাস থেকে আবারো নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।

এতে জেলার একমাত্র বাহাদুরাবাদ নৌ-থানা খোলাবাড়ি বাজার, মাদরাসা, চর মাগুরিহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদসহ শত শত বসতবাড়ি ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।

সাইফুল ইসলাম নামে স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ‘যখন তীব্র ভাঙন দেখা দেয় তখন জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জিও ব্যাগ ফেলে দায় সেরে চলে যায়। নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।’

তিনি দাবি করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নিলে ওইসব স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাহেলা বেগম বলেন, ‘একসময় সংসার, ঘরবাড়ি, গরু-বাছুর সবই আছিল। এখন অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে থাকি। যমুনার গর্ভে ১৩ বার বিলীন হয়েছে আমাদের বসতভিটা।’

অনেক পরিবার ঘর তৈরির জন্য জমি ভাড়া নেয়ার সামর্থ না থাকায় রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতে পানি কম থাকলেও পাড় ভেঙে পড়ছে একের পর এক। আস্তে আস্তে যমুনা নদী এখন নৌ-থানার সন্নিকটে চলে এসেছে। বিলীন হচ্ছে পাকা সড়ক।

নয়া দিগন্তের দেওয়ানগঞ্জ সংবাদদাতা খাদেমুল ইসলাম জানান, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে খোলাবাড়ি নামের গ্রামটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামটির ৭৯ ভাগের মতো বিলীন হয়ে গেছে।

তিনি জানান, খোলাবাড়ি থেকে চরডাকাতিয়া হয়ে বড়খাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে এই নদী ভাঙন।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো: নকিবুজ্জামান খান নয়া দিগন্তকে বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জরুরিভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে।

স্থায়ী প্রটেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রকল্প প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।