ভোটার হওয়ার পর জীবনে প্রথম ভোট দিয়েছি। ভোট দিয়ে কী যে ভালো লাগছে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। যাকে ভোট দিয়েছি, তিনি যদি জয়লাভ করে আরো ভালো লাগবে। এভাবে জীবনে প্রথম ভোট দেয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেন সাজেদা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূ। তিনি উপজেলার সাহেবপুর গোপালপুর কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন৷
মিরসরাই সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসা মো. শরীফ বলেন, ‘বিগত সময়গুলোতে ভোট দেয়া নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কা ছিল। এবার সেই দিন নেই, সে জন্য সাত সকালে এসেই ভোট দিলাম। আশা করি এবারের ভোটের মাধ্যমে পুরনো বন্দোবস্তের বদলে নতুন বন্দোবস্তের বাংলাদেশ হবে।'
মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, দিনের শুরুতে ভোটার কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে অনেক ভোটার বেড়েছে।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রমতে, মিরসরাইয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮১১ জন, তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ৪ জন। পোস্টাল ব্যালট রেজিষ্ট্রেশন করেছেন ৬ হাজার ৫৭২। পোস্টাল ছাড়া ভোটার হলো ৩ লাখ ৮০ হাজার ১০২টি ভোট। মোট ভোট কেন্দ্র ১০৬টি, মোট বুথের সংখ্যা ৭১৮। ১০৬টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামরা স্থাপনের করা হয়েছে।
মিরসরাই থানায় ৪৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১টি অধিক গুরুত্বপূর্ন (ঝুঁকিপূর্ণ), জোরারগঞ্জ থানার ৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ন (ঝুঁকিপূর্ণ)। দুটি থানা মিলিয়ে ১০৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি ঝুঁকিপূর্ণ। এ আসনে এবার ১৮ বছর থেকে ৩৩ বছর বয়সের ভোটার রয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭২ জন।
জানা গেছে, এ আসনে প্রার্থী রয়েছে ৭জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন, মুসলিম লীগ প্রার্থী শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাসদ (আসম আঃ রব) মনোনীত প্রার্থী একেএম আবু ইউসুফ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রির্টানিং অফিসার সোমাইয়া আক্তার বলেন, মিরসরাইয়ে সব কয়টি ভোট কেন্দ্র সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এখনো পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।



