গাজীপুরের শ্রীপুরে ধানক্ষেত থেকে শরীফ (৩২) নামে এক পরিবহন শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বড়পানী গ্রামের এক ধানক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত পরিবহন শ্রমিক শরীফ স্থানীয় বরমী ইউনিয়নের সোনাকর গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার জানান, তার স্বামী পরিবহন শ্রমিক শরীফ বরমী-ঢাকা রোডে চলাচলকারী প্রভাতী বনশ্রী পরিবহনের চালকের সহকারী (হেলপার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের সংসারে এক ও দু’ বছর বয়সী দু’টি সন্তান রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতের খাবার খেয়ে বাজারে আড্ডা দেয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন শরীফ। এর কিছুক্ষণ পর তাকে ফোন দিলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বহুবার চেষ্টা করেও মোবাইলে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পরে ভোরের দিকে তিনি শরীফের মামা হাবিবুর রহমানের কাছে বিষয়টি জানান। সকালে শরীফের আত্মীয়-স্বজনেরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। পরে আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে শরীফের অপর এক মামা জালাল উদ্দিন বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে গরু চড়াতে গিয়ে স্থানীয় বড়পানী গ্রামের ধানক্ষেতে শরিফের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের স্ত্রী জানান, স্থানীয় বাবু নামের এক ব্যক্তির সাথে তিন দিন আগে শরীফের ঝগড়া হয়। ওই ঘটনার জেরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহম্মদ বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের লাশের পাশ থেকে তিনটি কোকাকোলা ক্যান এবং কাপড় পেঁচানো অবস্থায় একটি হ্যাকসো ব্লেড উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



