সিলেটের ওসমানীনগরে চুরির গরু দিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতার বাড়িতে ইফতার পার্টির আয়োজনের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনার সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর শুক্রবার রাতে প্রবাসী এই নেতা লন্ডন চলে গেছেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নামে-বেনামে অপপ্রচার শুরু করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছে।
জানা যায়, গত ৫ রমজান (২ত ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার গলমুকাপন মাদরাসার পাশের মাঠ থেকে একই গ্রামের নাজমুল ইসলামের একটি ষাঁড় গরু চুরি হয়। এরপর গরুর মালিক গরুটির সন্ধান করতে গেলে প্রতিবেশী যুক্তরাজ্য প্রবাসী মধু মিয়ার বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদী ভুল তথ্য দিয়ে নাজমুলকে অন্যত্র গরুর সন্ধান করতে পাঠান। কিন্তু সাঈদীর তথ্যমতে সেখানে গিয়ে নাজমুল গরুর সন্ধান পাননি। ওইদিন রাত ৮টার দিকে প্রবাসী বিএনপি নেতা মধু মিয়ার বাড়িতে কসাই দিয়ে গরু জবাই করিয়ে রান্না করা হয়। পরদিন ৬ রমজান বিকেলে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়।
ইফতার পার্টিতে দাওয়াতী মেহমান হিসেবে নাজমুল উপস্থিত হয়ে গরুর দড়ি দেখে সন্দেহ করেন, তার গরু দিয়ে ইফতার হয়েছে।
তখন তিনি আশ পাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান। কিন্তু মধু মিয়া তার বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার দ্বারা চুরির ঘটনা ঘটেছে এমনটি বিশ্বাস করেননি। বিষয়টি নিয়ে অনেক চাপাচাপির এক পর্যায়ে ৮ রমজান রাত ১১টার দিকে মধু মিয়ার বাড়িতে এক সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মুরব্বিরা সিসিটিভি দেখে চুরির গরু দিয়ে ইফতার হয়েছে বলে নিশ্চিত হন। এরপর গরুর মালিক নাজমুলকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। সাথে সাথে কেয়ারটেকার সাঈদীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে তার পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়। ফয়সল নামের এক ফেসবুক আইডি থেকে বিষয়টি লাইভ প্রচার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমা এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধু মিয়ার পক্ষে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কয়েছ আহমদ চৌধুরী ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউপি যুবদলের সদস্য হুসাইন আহমদ বলেন, মধু মিয়া ব্যস্ত আছেন, তিনি আজ লন্ডনে চলে যাবেন, কোনো কথা বলবেন না। বিষয়টি আমরা সমাধান করে দিয়েছি। এ বিষয়ে আপনারা কোনো নিউজ করবেন না।
গরুর মালিক নাজমুল ইসলাম বলেন, আমার গরু চুরি হওয়ার পর মধু মিয়ার কেয়ারটেকার সাঈদ আমাকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন স্থানে গরুর সন্ধান করতে পাঠায়। আমি তাদের বাড়িতে ইফতারে গিয়ে আমার গরুর দড়ি দেখে চিনে ফেলি। এরপর বিষয়টি লোকজনকে জানালে এক পর্যায়ে সিসিটিভি দেখে নিশ্চিত হয়ে সালিশের মাধ্যমে আমাকে ৭০হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। গ্রামের আরো গরু চুরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা মধু মিয়ার বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদি’র মোবাইলে কল করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহর মোবাইলে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
ওসমানীনগর থানার ওসি মুর্শেদুল আলম ভূইয়া বলেন, এ বিষয়ে এলাকার কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। পত্রিকায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তদন্ত করে এলে বিস্তারিত বলতে পারবো।



