আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি সংসদীয় আসনে ১৩ লাখ নতুন ভোটারে চোখ প্রার্থীদের। জেন-জি প্রজন্মের এই ভোটারদের টানতে মরিয়া প্রার্থীরা। এছাড়াও প্রবাসী ও নারীদের ভোট নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে বড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসির তথ্যমতে, এবার সিলেট বিভাগে ভোটার সংখ্যা ৯১ লাখ ৬৮ হাজার ছাড়িয়েছে। সেই অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এবার তরুণ ভোটার বেড়েছে ১৩ লাখেরও বেশি।
এছাড়া বিভাগের চার জেলার ১ লাখ তিন হাজার ১৬৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ও সরকারি চাকরিজীবী পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন। ফলে প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে নারী, তরুণ ও প্রবাসী পোস্টাল ভোটাররা। অনেক আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসির সর্বশেষ তথ্য বলছে, সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা এখন ৯১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৬ জন। বিভাগের মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪১ জন। আর নারী ভোটার ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ১২৫ জন। যা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ছিল ৭৮ লাখ ৫৪ হাজার ৫০৭ জন। অর্থাৎ আগের নির্বাচনের চেয়ে এবার ভোট বেড়েছে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৫৫৯ জন। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার সিলেট জেলায় এবং সবচেয়ে কম ভোটার মৌলভীবাজার জেলায়।
বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেট জেলায় ভোটার ৩১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৯৭০ জন, মহিলা ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪০৮ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৮ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলায় মোট ভোটার ছিল ২৭ লাখ ১৫ হাজার ৩৩১ জন। গত নির্বাচনের চেয়ে এবার ভোটার বেড়েছে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫ জন।
ভোটারের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সুনামগঞ্জ জেলায় ভোটার সংখ্যা ২২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৭২৬ জন, মহিলা ভোটার ১০ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৪ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩৩ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জে ভোটার ছিল ১৯ লাখ ২২ হাজার ১৬৯ জন। সেই হিসেবে এবার ভোট বেড়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৩৪ জন।
হবিগঞ্জ জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২০ লাখ ৭ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৩২ হাজার ৩৪৫ জন, মহিলা ভোটার ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২৮ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জে ভোটার ছিল ১৭ লাখ ১ হাজার ৭৪৫ জন। সেই হিসেবে এবার ভোট বেড়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৪ জন।
চায়ের রাজধানী হিসেবে খ্যাত মৌলভীবাজার জেলায় বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছেন। এবার এ জেলায় মোট ভোটার ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৯ লাখ ১৯ হাজার ৮১৩ জন এবং মহিলা ভোটার ৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৬৭ জন। এ জেলায় হিজড়া ভোটার সংখ্যা ৮ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারে ভোটার ছিলেন ১৫ লাখ ১৬ হাজার ৫৮৮ জন। সেই হিসেবে এবার এ জেলায় ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ১০০ জন।
ইসির তথ্য বলছে, সিলেট বিভাগের চার জেলার এক লাখ তিন হাজার ১৬৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ও সরকারি চাকরিজীবী পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৬ হাজার ৭৫১ জন এবং মহিলা ১৬ হাজার ৪১৬ জন।
ইসির তথ্যমতে, সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ নিবন্ধন করেছেন ৪৫ হাজার ৮০৬ জন প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবী। এর মধ্যে পুরুষ ৩৮ হাজার ৪৭৭ জন এবং মহিলা সাত হাজার ৩২৯ জন।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নিবন্ধন করেছেন মৌলভীবাজার জেলার প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীরা। এ জেলায় মোট নিবন্ধন করেছেন ২৩ হাজার ৭৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২০ হাজার ১৮৮ জন এবং মহিলা তিন হাজার ৬১০ জন।
নিবন্ধনের দিক থেকে এরপরেই রয়েছে বিভাগের আরেক জেলা সুনামগঞ্জ। এ জেলা থেকে নিবন্ধন করেছেন ১৮ হাজার ১৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৫ হাজার ৭১ জন এবং মহিলা তিন হাজার ৮২ জন।
সবচেয়ে কম নিবন্ধন করেছেন হবিগঞ্জ জেলার প্রবাসীরা। এ জেলা থেকে নিবন্ধন করেছেন ১৫ হাজার ৪১০ জন প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবী। এর মধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ১৫ জন এবং মহিলা দুই হাজার ৩৯৫ জন। তবে প্রবাসী ছাড়াও এ নিবন্ধনে সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি চাকরিজীবীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ইসির তথ্যমতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সারাদেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার, নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন এক হাজার ১২০ জন।
সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিসের তথ্য সহকারী ডলি রানী সূত্রধর তরুণ ভোটার নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি নয়া দিগন্তকে জানান, এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে বড় প্রভাব রাখবে তরুণরা। তরুণ, নারী ও প্রবাসীদের ভোটেই ভাগ্য নির্ধারণ হবে।



