ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চার গ্রামবাসীর মধ্যে ফুটবল খেলার মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে ফের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ফজরের নামাজ শেষেই উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ, খাপুরা, সিংগারিয়া ও মাঝিকান্দা গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এর আগে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে রাতের আধার নামলে টর্চ জ্বালিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেন গ্রামবাসী। শনিবার ওই সংঘর্ষের জের ধরে ভোরের সূর্য ওঠার আগেই দলগুলো ঢাল, সরকি, রামদা, টেঁটা প্রভৃতি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীর যৌথ দল ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মুনসুরাবাদ বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে প্রায় রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত চলতে থাকে দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সর্বশেষ রাত ৮টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জানা গেছে, মুনসুরাবাদ, খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগারিয়া গ্রামের ছেলেরা ফুটবল খেলার জন্য মাইকিং শুরু করেন। এ সময় মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত, সাদ্দাম, তারেকের সাথে খাপুরা গ্রামের জাহিদ ও আজিমের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় পুনরায় হামলা চালিয়ে মুনসুরাবাদ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জিন্নাত মিয়াকে আহত করেন প্রতিপক্ষের লোকজন।
মুনসুরাবাদ গ্রামবাসীর মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তারা সংঘবদ্ধভাবে ঢাল, সরকি, রামদা, টেঁটা প্রভৃতি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন। অন্যদিকে খাপুরা, সিংগারিয়া ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে আসলে অনেকে টর্চ জ্বালিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে অত্র এলাকার চার গ্রামের লোকজনের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। শুক্রবারের পর শনিবার ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এলাকাবাসী। দীর্ঘ সময়ব্যাপী সংঘর্ষ চলে। পরে যৌথ বাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’



