দোয়ারাবাজারের মান্নারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

৩২ বছরেও নতুন ভবন হয়নি, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে পাঠদান

শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ২০২২ সালে বন্যাদুর্গতদের জন্য নির্মিত পুরোনো, মরিচাধরা টিনের আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর। স্কুল প্রতিষ্ঠাকালে নির্মিত ছোট ভবনটির দেয়ালজুড়ে স্যাঁতসেঁতে দাগ, মেঝেতে ফাটল। বর্ষায় কোথাও কোথাও পানি জমে থাকায় ক্লাস চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

Location :

Dowarabazar
৩২ বছরের পুরনো ভবনে স্থান সংকুলান না হওয়ায় আশ্রয়ন প্রকল্পের টিনশেডে চলে পাঠদান
৩২ বছরের পুরনো ভবনে স্থান সংকুলান না হওয়ায় আশ্রয়ন প্রকল্পের টিনশেডে চলে পাঠদান

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালে। অথচ ৩২ বছরেও বিদ্যালয়টিতে নির্মিত হয়নি নতুন কোনো স্থায়ী ভবন। নেই ওয়াশরুমের ব্যবস্থা। বছরের প্রায় আট মাস মাঠ থাকে জলাবদ্ধ । এখনো জরাজীর্ণ টিনের ঘরে পরিবেশে চলছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ২০২২ সালে বন্যাদুর্গতদের জন্য নির্মিত পুরোনো, মরিচাধরা টিনের আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর। স্কুল প্রতিষ্ঠাকালে নির্মিত ছোট ভবনটির দেয়ালজুড়ে স্যাঁতসেঁতে দাগ, মেঝেতে ফাটল। বর্ষায় কোথাও কোথাও পানি জমে থাকায় ক্লাস চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। গ্রীষ্মে ঘরের ভেতরে তীব্র গরমে ছোট শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভাঙা বেঞ্চে বসে ভেজা বই-খাতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা যেন এক যুদ্ধ। টয়লেট ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থীদের অন্যত্র যেতে হয়।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০০ জন। মাত্র পাঁচজন শিক্ষক প্রতিদিন এই অমানবিক পরিবেশে পাঠদান পরিচালনা করছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে মান্নারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকালে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি ছোট ভবন দিয়ে পাঠদান শুরু করে। ২০২৬ সালে এসেও সেই একই ভবনে চলছে শ্রেণি কার্যক্রম। ভবনসঙ্কটের কারণে শিক্ষার্থীরা অনীহা দেখালেও এলাকায় অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এটিই একমাত্র ভরসা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিমা খাতুন বলেন, উপজেলার সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত প্রতিষ্ঠান হলো মান্নারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই যুগেরও বেশি সময় পার হলেও কোনো নতুন ভবন পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সালে বন্যাদুর্গতদের জন্য নির্মিত জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চলছে পাঠদান। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে বিদ্যালয়ে থাকা গেলেও বর্ষায় সীমাহীন দুর্ভোগ দেখা দেয়। মাঠ ও আশপাশে বছরের প্রায় আট মাস পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আসতে পারে না।

তিনি আরো জানান, বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার আবেদন করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহান তামিম জানায়, বৃষ্টির সময় বই ভিজে যায়, গরমে মাথা ঘোরে, ঠিকমতো বসাও যায় না।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ে একাধিক নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে। কিন্তু মান্নারগাঁও গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এ বিদ্যালয়ের দিকে কারো নজর নেই। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো এলাকার শিক্ষার ভিত্তি। ৩২ বছরেও নতুন ভবন না হওয়া সরকারি অবহেলারই প্রমাণ। তারা অবিলম্বে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন কুমার সানা বলেন, মান্নারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।