ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ৩ শতাধিক সদস্যের সঞ্চয়ের ৩ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সিভিল স্যোসাইটি সাপোর্ট প্রোগ্রাম (সিএসএসপি) নামের একটি এনজিও।
বৃহস্পতিবার সদস্যদের ঋণ দেয়ার কথা ছিল এনজিওটির, কিন্তু ওই দিনই কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছেন এনজিও’র ম্যানেজার জুয়েল রানাসহ অন্যান্যরা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে উপজেলা শহরের পয়ারকান্দি এলাকার ওই এনজিও কার্যালয়ে ভিড় করছেন সদস্যরা। বাড়ীর মালিকের পুত্রবধূর আশ্বাসে সদস্য ও টাকা দেয় বলে জানায় ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০ ফেব্রুয়ারি মুক্তাগাছা শহরের পয়ারকান্দির আমজাদ আলীর বাড়ি ভাড়া নিয়ে কার্যালয় খোলে সিএসএসপি’র ম্যানেজার জুয়েল রানা। জাতীয় পরিচয়পত্র (৫৯৬৩০০২০১৮) নম্বরের তথ্যানুসারে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের বাসিন্দা জুয়েল রানার । তার পিতা আঃ মান্নান ও মাতা লুতফা বেগম।
জুয়েল বাড়ি ভাড়া নিয়ে বাড়ির মালিকের পুত্রবধূ ঈশিতা আক্তার মিনারাকে ক্যাশিয়ার হিসেবে নিয়োগ দেন। সিএসএসপি কর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৩ শতাধিক ব্যক্তি থেকে সদস্য ফি ১২০ টাকা ও ঋণ দেয়ার জন্য সদস্যদের কাছ থেকে ১০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় গ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ঋণ নিতে এসে গ্রাহকরা দেখেন কার্যালয়টি তালাবদ্ধ এবং সাইনবোর্ড নামিয়ে পালিয়েছেন এনজিওর কর্মীরা।
কুমারগাতা ইউনিয়নের ঘোষবাড়ী এলাকার শিরিনা আক্তার (২৬) বলেন, ‘সাত দিন আগে দুই বছর মেয়াদি ঋণের আশায় বিমাসহ প্রথমে ৬২০ টাকা দিয়ে ভর্তি হই। পরে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলে ১৩ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা করতে বলে। তখন টাকা জমা করলে বৃহস্পতিবার ১২টার সময় ঋণ নিতে অফিসে আসতে বলেন এনজিওর কর্মী। এসে দেখি, অফিসে তালা লাগিয়ে তারা পালিয়েছেন।’
বাড়ি ভাড়া দেয়া আমজাদ আলীর ছেলে রাসেল বলেন, ‘কিছুদিন আগে ওই এনজিওর ম্যানেজার জুয়েল রানা আমার বাড়িটি ভাড়া নেয়। কিন্তু তাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবারে ভাড়া, অ্যাডভান্স ও চুক্তিপত্র হওয়ার তারিখ ছিলো। মঙ্গলবারের পরে তাদের আর খুঁজে পাইনি।
বাড়ির মালিকের পুত্রবধূ ও এনজিওর ক্যাশিয়ার ঈশিতা আক্তার মিনারা বলেন, ‘তারা আমাদের বাড়ি ভাড়া নিতে আসে। বৃহস্পতিবার ভাড়ার চুক্তির টাকা দেয়ার কথা। এর আগে আমাকে চাকরি দেয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকাও নেয়। পরে তাদের সাথে গ্রাহকের বাড়ি যাই। তবে মিনারা নিজের হাতে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে জানতে এনজিওটির ম্যানেজার জুয়েলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
যোগাযোগ করা হলে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ পেয়েছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ কৃষ্ণ চন্দ্র জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কার্যক্রম চলমান। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



