জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশনে গত তিন দশকেও দৃশ্যমান কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। নব্বইয়ের দশকে যাত্রা শুরু করা এসব বন্দরে এখনো পাকা সড়ক, আধুনিক ওজন মাপার যন্ত্রসহ মৌলিক সুবিধার ঘাটতি রয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে অবস্থিত তিনটি শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে ভারত থেকে এলসির আওতায় কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি হয়। এ খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ কোটি টাকার রাজস্ব পায়। অথচ বন্দরে নেই আধুনিক অবকাঠামো।
ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের দাবি, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে মরহুম সংসদ সদস্য নজির হোসেনের উদ্যোগে তিনটি শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও পণ্য খালাসের সড়কগুলো এখনো খানাখন্দে ভরা। ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক বোঝাই মালামাল পরিবহন করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। শ্রমিকদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার বা স্বাস্থ্যসম্মত সুবিধা এবং ব্যবসায়ীদের জন্যও আবাসন বা প্রয়োজনীয় দাফতরিক কাঠামো নেই। ফলে বিনিয়োগে অনীহা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় চিহ্নিত চোরাকারবারিরা সিন্ডিকেট করে চোরাই পথে কয়লা ও পাথর দেশে প্রবেশ করাচ্ছে এমন অভিযোগও রয়েছে। বন্দরে আধুনিক ওজন মাপার যন্ত্র না থাকায় প্রতি ট্রাকে নির্ধারিত ১২ টনের পরিবর্তে ১৮ থেকে ১৯ টন পণ্য আনার অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালে ভারতের মেঘালয়ে পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগে হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে কয়লা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হলে আমদানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের দুর্ভোগ বাড়ে। এছাড়া ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রভাব সীমান্ত বাণিজ্যেও পড়ে। আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে এবং অনেক শ্রমিক বিকল্প জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন।
তাহিরপুর আমদানি কারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সবুজ আলম বলেন, ‘বিগত সময়ে বন্দরের কোনো উন্নয়ন হয়নি। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। অনেক সময় ব্যবসায়ীরাই নিজ উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার করেন। নতুন সরকারকে রাজস্ব ও শ্রমিক-ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।’
বাগলী শুল্ক স্টেশনের কাস্টমস সুপার আনোয়ার পারভেজ জানান, আধুনিক ওজন মাপার যন্ত্র স্থাপনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত পরিমাণের বেশি পণ্য এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বলেন, ‘হাজারো শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর স্বার্থে এবং সরকারের রাজস্ব আদায় অব্যাহত রাখতে এই বন্দরগুলো সচল রাখা জরুরি। একই সাথে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও চোরাচালান বন্ধে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশনকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করা হবে।



