স্বাধীনতার ৫৩ বছর পার হলেও সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার শিক্ষা খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সীমান্তবর্তী এই উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মানুষের উচ্চশিক্ষার একমাত্র ভরসা দোয়ারাবাজার সরকারি ডিগ্রি কলেজ—কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সেখানে অনার্স কোর্স চালু হয়নি। এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর উচ্চ শিক্ষার একমাত্র ভরসা, এই কলেজের মনোনয়নে কোনো জনপ্রতিনিধি এবং কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা সদরে এই প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে এটি ডিগ্রি কলেজে উন্নীত হয়। শুরু থেকেই উপজেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে চার একর ৮০ শতাংশ জমিতে কলেজটির রয়েছে চারটি বিশাল ভবন এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৮৫৪ জন। ভবনের সংকট কাটিয়ে উঠলেও শিক্ষক সংকট প্রকট—অনুমোদিত ২৬ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন।
স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার অজুহাতে অনার্স চালু হয়নি। ফলে—অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য শহরমুখী হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ায় প্রযুক্তির এই যুগেও অঞ্চলটি শিক্ষায় পিছিয়ে থাকছে।
স্থানীয়দের মতে, বিভিন্ন সরকার দেশের অন্যান্য অঞ্চলে শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করলেও দোয়ারাবাজারের দিকে তেমন নজর দেয়া হয়নি। যার কারনে উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের একটি মাত্র কলেজ দোয়ারাবাজার ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছরেও অনার্স চালু হয়নি।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক, দাতা সদস্য ও সচেতন মহল একযোগে দাবি জানিয়েছেন—শিক্ষক সংকট দ্রুত নিরসন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত অনার্স কোর্স চালু করা।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, অনার্স চালু হলে এই অঞ্চলের শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া অনেকটাই কমে আসবে।
দোয়ারাবাজারের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে অনার্স চালু এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্ম শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলেও জানান স্থানীয়রা।
কলেজের ডিগ্রী ফাইনাল বর্ষের শিক্ষার্থী এসার আহমদ জানান, নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে দোয়ারাবাজার উপজেলা। উপজেলার এসব মানুষের শিক্ষা অর্জনের জন্য রয়েছে একটি মাত্র কলেজ, দোয়ারাবাজার ডিগ্রী কলেজ। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছরেও কলেজটি এখনো পরিপূর্ণ হয়নি। চালু হয়নি অনার্স কোর্স। যার কারনে ইচ্ছে আর যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও অর্থের অভাবে আমরা এলাকার বাহিরে গিয়ে অনার্স পড়তে পারছিনা। বাধ্য হয়েই ডিগ্রীতেই পড়তে হচ্ছে। এছাড়াও নিম্ন ও মধ্য আয়ের শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষা অর্জন হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দোয়ারাবাজার ডিগ্রী কলেজে অনার্স চালু হলে প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা ঝরে পরবে না। তারা অনার্স চালু করতে ছাতক-দোয়ারা আসনের সংসদ সদস্য কলিমউদ্দিন আহমদ মিলনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কলেজের ভূমি দাতা সরদা বাবু জানান, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দোয়ারাবাজার ডিগ্রী কলেজ। এখন ২০২৬ পেরিয়েও কলেজটি উপজেলার একমাত্র এবং নয়টি ইউনিয়নের একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষাকার্যক্রম চলে আসছে। তবে কলেজে ডিগ্রী কোর্স চালু থাকলেও অনার্স কোর্স চালু না হওয়ায় প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাঅর্জন হতে বঞ্চিত হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, আমাদের ভূমি দেয়ার দায়িত্ব আমরা বিনাস্বার্থে তা দিয়েছি। কিন্তু সরকার ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমরা শিক্ষার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
কলেজের অধক্ষ্য মো: সাইফুল ইসলাম জানান, মানবিক এবং বানিজ্য শাখা নিয়ে দোয়ারাবাজার সরকারি কলেজ পাঠদান শুরু করে। পরবর্তীতে বিঙ্গান বিভাগ খুলার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন কারনে তা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু উপজেলার একটিমাত্র কলেজ দোয়ারাবাজার ডিগ্রী কলেজ হওয়ায় এখানে সম্পূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা থাকা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি। আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষ তা নিয়ে কাজ করছি।
তিনি আরো জানান,অনার্স কোর্স চালুসহ কলেজের শিক্ষার মনোনয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনা হয়েছে। তিনি আস্বস্ত করেছেন শীগ্রই এই সংকটের সমাধান করবেন।



