শোলাকিয়ায় ঈদুল আজহার জামাত সকাল ৯টায়

এবারের ঈদ জামাত উপলক্ষে মাঠের ২৬৫টি কাতারের জন্য দাগ টানা শেষ হয়েছে। আগাছা পরিষ্কার এবং ছোট ছোট গর্ত ভরাট করে মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান |সংগৃহীত

উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবারো অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত। ১৯৯তম এ জামাত অনুষ্ঠিত হবে ঈদের দিন সকাল ৯টায়।

জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে মাঠের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসন জানিয়েছে, শোলাকিয়ার ঐতিহ্য ও খ্যাতির কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিদেশ থেকে আসা মুসল্লিরাও প্রতি বছর এ জামাতে অংশ নেন। প্রতি বছরই মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়বত খান বাহাদুর ১৮২৮ সালে কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমির ওপর ঈদগাহটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম জামাতে প্রায় সোয়া লাখ মুসল্লি অংশ নেয়ায় এর নাম হয় ‘সোয়া লাখি মাঠ’, যা পরে উচ্চারণের পরিবর্তনে ‘শোলাকিয়া’ নামে পরিচিতি পায়।

এবারের ঈদ জামাত উপলক্ষে মাঠের ২৬৫টি কাতারের জন্য দাগ টানা শেষ হয়েছে। আগাছা পরিষ্কার এবং ছোট ছোট গর্ত ভরাট করে মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে।

ঈদ জামাত ঘিরে নেয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুইটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, শোলাকিয়ার ঈদ জামাতের মতো এত বড় জামাত উপমহাদেশে বিরল। লাখো মানুষের সাথে একসাথে নামাজ আদায়ে আলাদা ধর্মীয় আবেগ ও তৃপ্তি কাজ করে। তবে ঐতিহাসিক এ মাঠের স্থায়ী সংস্কার ও তদারকির অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য থাকা-খাওয়া, সুপেয় পানি, চিকিৎসাসেবা, টয়লেট ও অজুখানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ৩২টি চেকপোস্ট, সাতটি আর্চওয়ে, ৫০টি মেটাল ডিটেক্টর, ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং চারটি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের আগে তল্লাশি চালানো হবে। পাশাপাশি বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ড্রোন নজরদারিও থাকবে।

র‍্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার আলী নোমান বলেন, শতাধিক র‍্যাব সদস্য কয়েক স্তরে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। ওয়াচ টাওয়ারে স্নাইপার মোতায়েনসহ ড্রোন ও বাইনোকুলার দিয়ে তদারকি চালানো হবে।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেন, এবার অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

শোলাকিয়ার দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে তিনবার বন্দুকের গুলি ছুড়ে নামাজের প্রস্তুতির সঙ্কেত দেয়া হবে।

সূত্র : ইউএনবি