ঈদুল ফিতরের এক সপ্তাহের আনন্দঘন ছুটিতে সিলেটে ১০ লাখ পর্যটকের ঢল নামবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ লাখ মানুষ সিলেটের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে আগাম বুকিং দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এই সূত্র জানিয়েছে, ৫০ হাজারের মতো পর্যটক সিলেটের বিভিন্ন আকর্ষনীয় স্পট ও লোকেশনে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।
বিপুল পরিমাণ পর্যটকদের আগমনকে ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে সিলেটের পর্যটন খাতে। এতে এই ঈদে পর্যটন খাতে ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সিলেট নগরীসহ জেলাজুড়ে তিন শতাধিক হোটেল, মোটেল রিসোর্ট কটেজের ইতোমধ্যে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ বুকিং হয়ে গেছে। যেখানে প্রায় ৩ লাখ পর্যটক বুকিং সম্পন্ন করেছেন। এবছর ৭/৮ দিনের লম্বা ছুটি থাকায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক সিলেটে ঘুরতে আসবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলানিকেতন সিলেট সীমান্ত এলাকার পর্যটন স্পটসহ সবগুলো পর্যটন কেন্দ্র
মায়াবী সুন্দরের হাতছানি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক কারুকাজের এক অপার মোহনীয়তায় ভরপুর সিলেট সব সময়ই ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

সপ্তাহান্তে কয়েক দিন বৃষ্টি হওয়ায় সিলেটের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলো নতুন রূপে সেজে উঠেছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরসহ বিভিন্ন স্থানে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ ও পাথরের মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ। এছাড়া উৎমা ছড়া, তুরুং ছড়া, জৈন্তাপুরের লালাখাল এবং পান্তুমাই ঝর্ণাও এখন পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু এলাকায় বালু-পাথর লুটপাটের ঘটনা ঘটায় পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে বর্তমানে তা কাটিয়ে উঠে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিকতার কারণে পর্যটকদের আস্থা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিলেটের ৮৫-৯০ শতাংশ হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন পর্যটকরা। ফাইভ স্টার হোটেলে শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের পরদিন থেকে মূলত সিলেটে পর্যটকদের ঢল নামবে। আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত সিলেটের হোটেল মোটেল ৯০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে।
স্থানীয় হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন খাত এবং ট্যুর অপারেটররা ইতোমধ্যে পর্যটকবরণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। তারা বলছেন, পর্যটকের চাপ সামাল দিতে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে এবার লাভের মুখ দেখার আশায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরের জিন্দাবাজার এলাকার হোটেল গোল্ডেন সিটির ব্যবস্থাপক মিষ্ঠু দত্ত নয়া দিগন্তকে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে আমাদের হোটেলের বেশিরভাগ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। প্রতি বছরই ঈদের সময় সিলেটে পর্যটকের চাপ থাকে, তবে এবার আগ্রহটা একটু বেশি দেখা যাচ্ছে। আমরা অতিথিদের ভালো সেবা দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছি এবং আশা করছি, এবার ব্যবসা সন্তোষজনক হবে।
সিলেটের পাহাড়, নদী, ঝরনা ও বিস্তীর্ণ চা-বাগানের অপার সৌন্দর্য প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে দেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত কয়েক বছর প্রত্যাশিত পর্যটক আসেনি। তবে এবারের ঈদকে ঘিরে যে সাড়া দেখা যাচ্ছে, তাতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেটের সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন নয়া দিগন্তকে জানান, ইতোমধ্যে সিলেটের প্রায় ৮৫ শতাংশ আবাসিক হোটেল ও মোটেল বুকিং হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, দেড় বছর ধরে নানা কারণে সিলেটের পর্যটন খাত আশানুরুপ জমে ওঠেনি। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আমরা আশা করছি, ঈদের সময় পর্যটনের সুবাতাস বইবে এবং বড় ধরনের ব্যবসা হবে।
স্থানীয় ট্যুর গাইড মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর পর্যটক কম থাকায় আমরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছিলাম। তবে এবার ঈদের আগেই বুকিং ও যোগাযোগ বেড়েছে। আমরা আশা করছি, পর্যটকদের ভালো সেবা দিতে পারলে ভবিষ্যতেও তারা আবার আসবেন।



