ফেনীর সোনাগাজী আমিরাবাদ ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের পূর্বপাশে গুচ্ছগ্রাম সড়কে প্রায় ৩ লাখ ও সদর ইউনিয়নের চরলামচি মৌজার মুহুরী প্রজেক্ট বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৫ লাখ সহ মোট আট লাখ ঘনফুট অবৈধ বালু জব্দ করেছে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারজান হোসেনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এবং শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে একই অভিযানের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত ওইসব বালু জব্দ করে লাল পতাকা উড়িয়ে দেন এবং স্থানীয় তহশিলদারকে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিযুক্ত করেন।
অভিযান পরিচালনার সময় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের কাউকে না পাওয়ায় অবৈধ উত্তোলনকৃত বালু জব্দের তালিকায় নিয়ে নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারজান হোসেনের আদালত।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারজান হোসেন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সোনাগাজী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশেম।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারজান হোসেন বলেন, অবৈধভাবে কিছু অসাধু লোক নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাওয়ায় অবৈধ বালুর স্তূপ জব্দ করা হয়েছে। তবে সময়স্বল্পতার জন্য সঠিক পরিমাপ করা যায়নি। জব্দকৃত বালু পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইউনিয়ন ভূমি তহশিলদারকে তদারকির জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, জব্দকৃত পৃথক দুই স্থানের বালু আনুমানিক ৮ থেকে ৯ লাখ সেফটি/ঘনফুট হবে। সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান জানতে ভালো করে পরিমাপ করতে হবে।
স্থানীয় শামসুদ্দিন নামে এক এলাকাবাসী জানান, ইতিমধ্যে নদী থেকে উত্তোলন করে লাখ লাখ ঘনফুট বালু বিক্রি করে দিয়েছে। এখনো অন্তত দুই স্থানে ১০ লাখ ঘনফুট বালু রয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সোনাগাজীর চর চান্দিয়া, চর দরবেশ, চর মজলিশপুর, আমিরাবাদ, নবাবপুর ও সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের নদী উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহল নদী থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রম শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। যার ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে এবং কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি সেতু হুমকির মুখে পড়েছে।
উল্লেখ্য, ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ‘সোনাগাজীতে বেড়িবাঁধ রক্ষার বালু রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে বালু দস্যুরা’ শিরোনামে, ২৯ জুন ২০২৬ ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের স্তূপে হুমকিতে দুটি ব্রিজ’ শিরোনামে এবং ১ জুন ২০২৬ তারিখে ‘অবৈধ বালু উত্তোলনে ২৫০ কোটি টাকার দুটি সেতু হুমকিতে’ শিরোনামে দৈনিক নয়া দিগন্তে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়।



