দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে ফাতেমা খাতুন নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৫ মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ডাংমড়কা এলাকায় আল মদিনা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো: বিদ্যুৎ হোসেন দৌলতপুর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন ডাক্তার টি এ কামাল, ক্লিনিকের মালিক জনি ও আরিফুল ইসলাম গেদু (৬২)।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার মধুগাড়ী (বাজারপাড়া) গ্রামের বিদ্যুৎ হোসেনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফাতেমার প্রসব বেদনা উঠলে সোমবার দুপুরে তাকে ডাংমাড়কা বাজারস্থ আল মদিনা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকটি জনি ও তার বাবা আরিফুল ইসলাম গেদু পরিচালনা করেন।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডাক্তার কামাল ফাতেমাকে অপারেশন রুমে নিয়ে যান। অপারেশনের কিছুক্ষণ পর ডাক্তার ও ক্লিনিকের মালিকপক্ষ ফাতেমার নবজাতক ছেলেটিকে তার এক আত্মীয়ের কোলে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে ক্লিনিক থেকে পালিয়ে যায়। পরে ফাতেমার স্বামী ও স্বজনরা অপারেশন রুমে ঢুকে ফাতেমাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অপারেশন করার সময় অবহেলা করা হয়েছে। এমনকি তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ফাতেমার অপারেশনের কাটা স্থানটি পর্যন্ত সেলাই করা হয়নি। রক্তাক্ত ও উন্মুক্ত অবস্থায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে ফেলে রেখে যায় আসামিরা।
নিহত ফাতেমার স্বামী বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রীর যখন প্রসব বেদনা ওঠে, তখন ভালো চিকিৎসার আশায় আল মদিনা ক্লিনিকে নিয়ে এসেছিলাম। সন্ধ্যার সময় কামাল নামের ওই ডাক্তার আর ক্লিনিকের মালিক জনি আমার স্ত্রীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তারা আমার নবজাতক ছেলেকে আমাদের কোলে দিয়ে বলে, বাচ্চাকে ধরেন, আমরা একটু আসছি।'
তিনি আরো বলেন, ‘এরপর দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে আমরা জোর করে অপারেশন রুমে ঢুকে দেখি আমার স্ত্রী আর বেঁচে নেই। সবচেয়ে বড় নির্মমতা হলো, ওরা তাড়াহুড়ো করে পালানোর জন্য আমার স্ত্রীর পেটের কাটা অংশটুকু সেলাই করার প্রয়োজনও মনে করেনি। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে সবাই পালিয়ে গেছে। আমি আমার স্ত্রীর এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ বিচার চাই, ডাক্তার আর ক্লিনিক মালিকদের শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক আরিফুল ইসলাম গেদু বলেন, ‘রোগির সমস্যা ছিল। অপারেশনের সময় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বজনদের সাথে বিষয়টি নিয়ে মিটমাটের প্রক্রিয়া চলছে। দু-একদিনের মধ্যে এটি সমাধান হয়ে যাবে।’
দৌলতপুর থানার প্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনার খবর শুনে ওই রাতেই গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। নিহতের স্বামীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘চিকিৎসায় অবহেলা বা কোনো ধরনের জালিয়াতি হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



