ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, ইখলাস, তাকওয়া, আমানতদারি, শৃঙ্খলা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘ইউনিট সভাপতি শিক্ষাশিবির-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিনব্যাপী এ শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ইউনিট পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেয়া এবং কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীলকে নিয়মিত জ্ঞানচর্চা ও আত্মগঠনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের নৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে হবে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য, দৃঢ়তা ও আদর্শের ওপর অবিচল থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
রাজশাহী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মো: গোলাম মুর্তজার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চা, আত্মগঠন ও সাংগঠনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা বাড়াতে হবে। কোরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলদের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীলের পরিচয় শুধু সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার চরিত্র, আচার-আচরণ, নৈতিকতা ও মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমেও যোগ্যতার প্রকাশ ঘটে। মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি সমাজের মানুষের কাছে ইসলামের শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণের বার্তা পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ত্যাগ, কোরবানি, ধৈর্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন, ইউনিট সভাপতিরা সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল। তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর সাংগঠনিক কার্যক্রমের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে। শিক্ষাশিবির থেকে অর্জিত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ নিজ নিজ ইউনিটের কার্যক্রমে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিগত চরিত্র গঠন, নিয়মিত অধ্যয়ন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং মানুষের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। একইসাথে সমাজের কল্যাণে ইতিবাচক ও মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষাশিবিরে রাজশাহী জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা অংশ নেন। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে দারসুল কোরআন, ইসলামী সঙ্গীত, দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ত্যাগ ও কোরবানি, বাইআতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য, ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সাধারণ প্রশ্নোত্তরসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।



