মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে ছুড়া আরাকান আর্মির গুলিতে আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন টেকনাফের শিশু হুজাইফা আফনানের (৯) শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে প্রশাসনের উদ্যোগে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
হুজাইফা কক্সবাজারের টেকনাফের সীমান্ত থেকে তিন কিলোমিটার দূরে গত রোববার সকালে হোয়াইক্যাং তেচ্ছাব্রিজ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়। সে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে। সকালে দাদার সাথে নাস্তা আনতে গিয়ে মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা গুলিতে আহত হয় সে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শিশু আফনানের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠকে তাকে দ্রুত রাজধানীতে স্থানান্তরের সুপারিশ করা হয়। সে অনুযায়ি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকায় নেয়ার জন্য হুজাইফাকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়।
তিনি বলেন, চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা হুজাইফার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি।
হুজাইফাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানিয়ে তার চাচা মাদরাসা শিক্ষক শওকত আলী বলেন, ‘প্রশাসনের সহায়তায় ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সাথে বিজিবি সদস্য এবং একজন ডাক্তার যাচ্ছেন।’
গুলিবিদ্ধ হুজাইফাকে টেকনাফ থেকে ওই দিন বিকেল ৪টায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার চাচা শওকত আলী। রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যালের চিকিৎসকরা মেয়েটির মাথায় অস্ত্রোপচার করলেও গুলি বের করতে পারেননি।
হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক দিন পর সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে একই এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামে এক যুবকের পা বিছিন্ন হয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) গুলি ও মাইনে গুরুতর আহত হয়েছেন হুজাইফা ও হানিফ।
হানিফের ভাই ইমাম হোসেন জানিয়েছেন, সোমবার রাত ৯টার দিকে মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হানিফকেও চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। বাসস



