কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

৩ মাসে ৪১১ মাদক কারবারি ও মাদকসেবী আটক

‘মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক কারবারি বা তাদের সহযোগী—কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মিরপুরকে মাদকমুক্ত করতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার ও মিরপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নির্দেশে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

মিরপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা

Location :

Mirpur
কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম |নয়া দিগন্ত

মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের কাছে আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মিরপুর উপজেলা জুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মে থেকে জুলাই—এই তিন মাসে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে ৪১১ জন মাদক কারবারি ও সেবীকে আটক করা হয়েছে।

অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এদিকে, গত ৯ মে মাদক মামলার এক আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় তদবির করতে আসা রাজনৈতিক দলের পাঁচ নেতা-কর্মীকে আটক করে আলোচনার জন্ম দেন ওসি শহিদুল ইসলাম। মিরপুর থানার ১৪১ বছরের ইতিহাসে এমন পদক্ষেপকে অনেকেই ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করছেন।

মাদক নির্মূলে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ওসি মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক কারবারি বা তাদের সহযোগী—কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মিরপুরকে মাদকমুক্ত করতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার ও মিরপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নির্দেশে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো তদবির, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কাছে আইন নতি স্বীকার করবে না। সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় মাদক নির্মূলে আমরা আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। তাই মাদক কারবারি ও সেবীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’