মুহাম্মাদ কামাল হোসাইন

‘সংসদ নির্বাচনের ভোট মানেন আর গণভোট মানেন না, এটা জনগণের সাথে প্রতারণা’

‘আমরা বলব ১৮ কোটি জনগণের ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমরা চাই না জুলাই বারবার ফিরে আসুক।’

Location :

Chandpur
বক্তব্য রাখছেন ঢাকা-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ কামাল হোসাইন
বক্তব্য রাখছেন ঢাকা-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ কামাল হোসাইন |নয়া দিগন্ত

শাহরাস্তি (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

চাঁদপুরের কৃতী সন্তান ও ঢাকা-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ কামাল হোসাইন বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা দাবি করেছিলাম, গণভোট আগে হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরে হবে। কিন্তু আপনারা দুই ভোট একসাথে হওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়ে এখন সংসদ নির্বাচনের ভোট মানেন আর গণভোট মানেন না। এট জনগণের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

রোববার (২২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় শাহরাস্তি উপজেলা ও পৌরসভা জামায়াতের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

উপজেলা ও পৌর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি মিলনায়তনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংবর্ধিত অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং পরে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। উপজেলা ও পৌর জামায়াত, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন শাখার পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে ফুলেল সংবর্ধনা প্রদান করা হয়, যা পুরো আয়োজনকে বর্ণাঢ্য রূপ দেয়।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে মুহাম্মাদ কামাল হোসাইন বলেন, ‘একই মায়ের যমজ সন্তান, এক সন্তান বৈধ আর আরেক সন্তান অবৈধ হয় কিভাবে, জাতি জানতে চায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। আপনারা যদি জুলাই সনদ নিয়ে তালবাহানা করেন তাহলে জনগণ ভালো করেই জানে, কিভাবে দাবি আদায় করতে হয়।’

এমপি কামাল হোসাইন বলেন, ‘১৯৯৬ সালেও কিন্তু আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী বুঝেন নাই, পরবর্তীতে জনগণের আন্দোলনের মুখে পড়ে ঠিকই বুঝেছেন। আমরা বলব ১৮ কোটি জনগণের ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমরা চাই না জুলাই বারবার ফিরে আসুক।’

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের হাজারো শহীদ, চোখ হারা, হাত হারা, পা হারা প্রায় পাঁচ হাজার পঙ্গুত্ববরণকারী গাজী ভাই-বোনেরা এখনো জীবিত রয়েছে। তারা আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না, আপনাদের ছাড় দিবে না। জুলাই আন্দোলনের শহীদের জমিনে আর কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখল, অনিয়ম, দুর্নীতি চলবে না।’

শাহরাস্তি উপজেলা জামায়াত আমির মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ও পৌরসভার আমির মাওলানা জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইন, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মো: জামাল হোসেন, জেলা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য সহকারী অধ্যাপক মো: শাহ আলম, ইব্রাহিম খলিল, চাঁদপুর জেলার সাবেক সভাপতি মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকী, কাউসার আলম, হাফেজ শাহ জালাল, ছাত্রশিবিরের সাবেক সহকারী বিদেশবিষয়ক সম্পাদক মো: কামরুজ্জামান, সাবেক জেলা সেক্রেটারি জসিমুল হক পাটোয়ারী, উপজেলার নায়েবে আমির বাদশা ফয়সাল, সেক্রেটারি মাওলানা মাঈন উদ্দিন, পৌরসভার নায়েবে আমির মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা আলমগীর হোসেন প্রমুখ।