সাভারে পোশাক কারখানায় ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতার ২৩, চাকরিচ্যুত ৬৯

শ্রমিকদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন দাবি করায় মিথ্যা অভিযোগে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং সাজানো মামলায় গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে।

আমান উল্লাহ পাটওয়ারী, সাভার (ঢাকা)

Location :

Savar
সাভারে গ্রেফতারকৃত পোশাক শ্রমিকরা
সাভারে গ্রেফতারকৃত পোশাক শ্রমিকরা |নয়া দিগন্ত

সাভারে পোশাক কারখানায় ভাঙচুর চালানোর মামলায় পুলিশ ২৩ শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া একই ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ ৬৯ শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে কারখানা থেকে ও বুধবার রাতে সাভারের বিভিন্ন বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন দাবি করায় মিথ্যা অভিযোগে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং সাজানো মামলায় গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে।

শ্রমিক ও মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, সাভার পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিরুলিয়া রোডের আজিম গ্রুপের গ্লোবাল ফ্যাশন গামের্ন্টস লি. ও গ্লোবাল আউটার ওয়্যার লি. কারখানায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। গত ২৪ জানুয়ারি প্রতিদিনের মতো কারখানার কার্যক্রম শুরু হলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শরীফুল ইসলাম ও রুমা আক্তারের নেতৃত্বে অন্য শ্রমিকরা কর্মস্থলের কার্যক্রম ব্যাহত করে বহিরাগতদের ইন্ধনে ১১ তলা ভবনের সামনে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন ও নগদ টাকা লুট করে।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সোহেল রানা ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ২০০-২৫০ জন শ্রমিকের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ ওই রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে এ মামলায় ২৩ শ্রমিককে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার শ্রমিকরা হলেন- মো: সিয়াম প্রামানিক (৩৩), মো: আলাল শেখ (৩৬), মো: আব্দুলমমিন (৩৪), মো: ইমন (৩০) মিস্টার বিনু সরকার (২৭), ময়না আক্তার (৩১), মো: জুলহাস (৩২), মো: সুমন (২৩), মো: আশিক মিয়া (২৮), মো: আব্দুর রহিম মিয়া (৩২), মো: সোহরাব মিয়া (৪৭), মো: সবুজ মিয়া (৩৯), মো: সালামুন (২৯), লাবনী (৩৮), সাবিনা আক্তার (৪৪), রেশমা (৩৩), মো: রবিউল ইসলাম (২৯), মোসা: মৌসুমী খাতুন (৩০), মো: সারোয়ার (৫১), মো: সুজন মিয়া (৩৫), তাজ নাহার আক্তার (৩২), মো: মানিক (৩৩) ও সৃতি বেগম (৩৮)।

কারখানার অপারেটর শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বেতন মাস শেষ হলে পরের মাসের ১০ তারিখের মধ্যে দেয়ার কথা থাকলেও তা নিয়মিত দেয়া হয় না, এমনকি বাৎসরিক ছুটির টাকাও পরিশোধ করা হয় না। বেতন ও ছুটির টাকা নিয়মিত দেয়ার জন্য শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি করলে আমাদের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের মামলা দেয়া হয়। কে বা কারা ভাঙচুর করেছে, আমরা কিছুই জানিনা।’

তিনি বলেন, ‘কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাদের ৬৯ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করেছেন এবং মিথ্যা মামলায় আমাদের ৩০ শ্রমিককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ।’

বাংলাশে গামের্ন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় আটক শ্রমিকদের দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি এবং চাকরিচ্ছুতদের চাকরিতে পূর্ণবহালের দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধেরও দাবি জানান।

মামলার বাদি ও কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সোহেল রানা নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘কারখানা ভাঙচুরের ঘটনায় শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’

সাভার মডেল থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: আবুল কালাম আজাদ নয়া দিগন্তকে জানান, বুধবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়। ওই রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে মামলার ২৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।